ব্লগ থেকে কিভাবে আয় করা যায়?

অনলাইনে আয় করার নিশ্চিত একটি ভালোমানের ব্লগ থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়। আপনার

ব্লগ দিয়ে কোন কোন সোর্স থেকে টাকা আয় করতে পারবেন, সেটা আপনার ব্লগিং এর ধরনের উপর

নির্ভর করে। সাধারণত টেক বিষয়ের ব্লগ হতে আয়ের সোর্স বেশি হয়ে থাকে। আপনার একটি

মোটামোটি মানসম্পন্ন ব্লগ থাকলে নিচের সোর্সগুলো হতে ব্লগিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন।

দেখে নিতে পারেন:
  1. এ্যাড নেটওয়ার্ক (AdSense and Media.net)।
  2. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।
  3. বিজ্ঞাপন স্পেস বিক্রি করে।
  4. স্পনসরড পোস্ট।
  5. পেইড রিভিউ।
  6. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি।
  7. সার্ভিস  বিক্রি।
  8. পেইড মেম্বারশীপ।

একজন ব্লগার উপরের সোর্সগুলো হতে ব্লগিং করে অনলাইন হতে টাকা আয় করতে পারে। ব্লগিং শুরুর

দিকে সবগুলো উপায়ে আয় করা না গেলেও ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের সকল সোর্স হতে

একজন ব্লগার প্রতি মাসে টাকা আয় করতে পারেন।

গুগল এডসেন্স হতে আয় (বিজ্ঞাপন)

Google AdSense হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা

করছে। গুগল বিভিন্ন বিজ্ঞাপনি কোম্পানির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন নিয়ে তাদের

নেটওয়ার্কের আওতাধীন যত ওয়েবসাইট আছে সেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে আয় করে। গুগল

AdSense বিজ্ঞাপন থেকে যত টাকা আয় করে তার ৬৮ ভাগ টাকা পাবলিশারদের দিয়ে থাকে এবং

বাকী ৩২ ভাগ টাকা নিজেরা ভোগ করে।

গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন ব্লগে ব্যবহার করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি এডসেন্স একাউন্ট খুলতে

হবে। এডসেন্স একাউন্ট খোলার মাধ্যমে আপনার ব্লগে এডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহার করার জন্য আবেদন

করতে হবে। গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করার পর গুগল আপনার ব্লগটি ৫/৭ দিনের মধ্যে রিভিউ

করবে। রিভিউ করে আপনার ব্লগকে উপযুক্ত মনে করলে এডসেন্স আপনার ব্লগকে অনুমোদন দেবে।

এডসেন্স অনুমোদন হলে আপনার ব্লগে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন ব্যবহা করে ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে

পারবেন।

গুগল এডসেন্স ছাড়াও বিশ্বে আরো অনেক এডভার্টাইজ কোম্পানি আছে। আপনি তাদের এড আপনার

ব্লগে দেখিয়ে ব্লগ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। এরকম কিছু সাইটের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

  • মিডিয়া নেট
  • গ্রীণ রেড
  • ক্লিকসোর
  • এডব্রাইট
  • বিডভার্টাইজার
  • ইনফোলিংকস

 অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক পন্য ক্রয় ও বিক্রয়। অনলাইনে পন্য ক্রয় ও বিক্রয়

সংক্রান্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্টানের বিভিন্ন প্রোডাক্ট অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌছে দিয়ে

কিংবা বিক্রয় করে বিক্রয়কৃত প্রোডাক্ট হতে শতকরা হারে কমিশন লাভ করাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট

মার্কেটিং। অর্থাৎ কোম্পানি আপনাকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট দেবে এবং আপনি সেই প্রোডাক্টগুলোর লিংক

শেয়ারের মাধ্যমে কাস্টমারদের কাছে বিক্রয় করবেন। সবশেষে কোম্পানি আপনার বিক্রয়কৃত প্রোডাক্ট

হতে মোট দামের উপর ১০% – ১৫% কমিশন আপনাকে দেবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমি কিভাবে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট হাতে পাব? এখানে

আপনাকে কোন প্রোডাক্ট হাতে দেওয়া হবে না। আপনি কোন একটি কোম্পানির ওয়েবসাইটে

রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনার জন্য সম্পূর্ণ ইউনিক একটি Url দেওয়া হবে।

তারপর আপনি যে সকল পন্য প্রমোট করতে চান সেই সকল পন্যের মধ্যে ক্লিক করে প্রত্যেকটি পন্যের

আলাদা আলাদা Url নিতে পারবেন। তারপর আপনি সেই লিংকগুলো ক্রেতাদের কাছে পৌছাতে

থাকবেন। কোন ক্রেতা যখন আপনার লিংকে ক্লিক করে কোন পন্য ক্রয় করবে তখন ঐ পন্যের মূল্য হতে

শতকরা হারে কমিশন দেবে। মূলত এই প্রক্রিয়াকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। বড় বড় ব্লগগুলো

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হতে সবচাইতে বেশি টাকা আয় করে।

বিজ্ঞাপন স্পেস বিক্রি

আপনার ব্লগটি যখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তখন আপনিও চাইলে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন

নিয়ে সরাসরি আপনার ব্লগে পাবলিশ করতে পারবেন। একটি জনপ্রিয় ব্লগের বিজ্ঞাপন স্পেস এর অনেক

দাম হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্য আপনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে।

তবে আপনার ব্লগের ভিউ ও ট্রাফিক বেশি হলে বিভিন্ন কোম্পানি বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনার সাথে

যোগাযোগ করবে।

 স্পনসরড পোস্ট

একটি ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠার পর টাকার বিনিময় অন্য ব্লগের কোন প্রোডাক্ট বা ব্লগ সম্পর্কে লিখার

জন্য অফার পাওয়া যায়। অনেক সময় বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের বা প্রোডাক্টের প্রচার এবং

প্রসারের জন্য পেইড ব্লগ পাবলিশ করে থাকে। আপনার ব্লগটি ভালোমানের হয়ে থাকলে এসব স্পনসরড

পোস্ট আপনার আয়ের অন্যতম একটি উৎস হতে পারে।

পেইড রিভিউ

কোন ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্ট যেমন-স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা অন্যকোন ডিজিটাল

প্রোডাক্ট লঞ্চ হওয়ার পর সেটির ভালো দিকগুলো মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি

সেটি নিয়ে ব্লগে রিভিউ করার জন্য অফার করে। এ ধরনের একটি প্রোডাক্ট রিভিউ করে ভালোমানের

টাকা আয় করা যায়।

 ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি

কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর কোন অভাব নেই। আপনি

গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং বা ফটোগ্রাফির মতো কোনো বিষয়ের ওপর দক্ষতা থাকলে সেই প্রোডাক্ট

বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন। যেমন-

  • গ্রাফিক ডিজাইন।
  • ওয়েব ডিজাইন।
  • ব্লগ থিম।
  • ই-বুক।
  • অনলাইন কোর্স।
  • সফটওয়্যার ও গেমস ইত্যাদি।

সাধারণত এ ধরনের প্রোডাক্টগুলো অনলাইনে সহজে বিক্রি করা যায়। আপনার নিজের তৈরি এ ধরনের

কোন প্রোডাক্ট থাকলে সেটি আপনার ব্লগে শেয়ার করার মাধ্যমে বিক্রি করে অনলাইন থেকে টাকা আয়

করতে পারেন।

সার্ভিস বিক্রি

আপনি যেকোন বিষয়ে অন্যকে বুঝানোর মত অভীজ্ঞতা সম্পন্ন হলে বা ভালো ওয়েব ডিজাইনার কিংবা

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে আপনি অনলাইনে ব্লগ লিখে আপনার প্রতিভা মানুষের মাঝে পাবলিসিটি করতে

পারেন। এতেকরে ভবিষতে মানুষ তাদের প্রয়োজনে অবশ্যই আপনাকে কোন না কোন কাজের জন্য

খুজবে। আপনি যে সার্ভিস বা সেবা প্রোভাইড করতে পারেন সে সার্ভিসটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অফার

করে আয় করে নিতে পারেন।

আমার শেষ কথা

আমার বিশ্বাস আপনি এই পোস্টের সবগুলো বিষয় বুঝে নিজের ব্লগে এপ্লাই করলে অল্প দিনে ব্লগিং করে

অনলাইন হতে টাকা আয় করতে পারেন। তাছাড়া আপনারা ব্লগিং করে মাসে কত টাকা আয় করছেন

সেটা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। উপরের পদ্ধতিগুলো ছাড়াও আপনি অন্য কোন উপায়ে

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে আয় করে থাকলে পাঠকের সুবিধার্তে সেটিও কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভূলবেন না। 

Leave a Comment