এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন? (পর্যালোচনা-২০২১)

শুরুর থেকে শুরু:-

একটি অলস রাত কাটিয়ে, কোন রকম স্বপ্ন ছাড়া। সকালে আপনি অফিসে যাওয়ার জন্য বের হন। সঠিক সময়ের মধ্যে অফিসে যেতে হবে। তা না হলে অনেক সমস্যা হবে। রাস্তাগুলি অন্য অর্ধ ঘুমন্ত যাত্রীদের সাথে জ্যাম করে। পাঁচ ঘন্টা অবধি মনের অলস ইমেলের পরে ইমেলের মাধ্যমে জব শেষ করে। আবার বাড়ি আসা এটা জীবনের জন্য বড়ই একঘেয়েমি ছাড়া আর কিছু না।

এখন নিজেকে দেখতে ভয়ঙ্কর লাগছে?

কয়েক টাকা উপার্জনের জন্য ইঁদুরের মতো একঘেয়েমি এবং বোকা লোকদের সাথে আচরণ করার পরিবর্তে আপনি যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গা থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন – এমনকি আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন? তখনো আপনি আয় করতে পারবেন।

জীবন যুদ্ধে আমরা প্রায় অধিকাংশ মানুষ নিজে হারিয়ে ফেলি। কিন্তু আমরা চাইলে একটু সময় দিয়ে একটু পরিশ্রম করলে আমাদের জীবন আরো সুন্দর হতে পারে।

তাই বন্ধুরা আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলতে। যেমন খুশি, যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি কাজ করার জন্য যে কাজটি আপনাদের করতে হবে তা হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং।

আরো পড়ুন:- ফাইবার কি ? কিভাবে একটি ফাইবার একাউন্ট করবেন। Spandada-1
 

হ্যাঁ বন্ধুরা আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করেন, তবে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো নিজেকে বদলাতে পারবেন। আপনি যদি অনলাইনে অর্থোপার্জন এবং একটি সফল অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হন ।তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্ভবত আপনার সেরা বেষ্টগুলির মধ্যে একটি। কেউই কেবল অনুমোদিত মার্কেটারে পরিণত হতে পারে তা নয়, এর স্কেলিবিলিটি হওয়ার বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে; উল্লেখ করার দরকার নেই, আপনি আক্ষরিকভাবে বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে কাজ করতে পারেন।

তার জন্য আপনার লেখালেখি করার প্রতি মোটামোটি দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি বাংলা বা ইংরেজিতে লিখতে পারেন। তবে বিশ্বের কাছে আপনাকে ভালো লেখক হিসাবে উপস্থাপন করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ইংরেজিতে লিখতে হবে। আপনার লেখার কোন গ্রামারের সমস্যা হলে আপনি সমাধানের জন্য Grammerly নামে একটি সফ্টওয়ার আছে আপনি সেটা ব্যবহার করতে পারেন।

লেখার সময় ‍যদি কোন গ্রামারের ভূল হয়ে থাকে। তবে Grammerly তার সকল সমাধান করে থাকে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পিছনে কিছু ধারণা:-

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো একটি বিক্রয় চালানো এবং উল্লেখযোগ্য অনলাইন আয় উপার্জনের একটি জনপ্রিয় কৌশল বা মাধ্যম। উভয় ব্র্যান্ড এবং অনুমোদিত বিপণনকারীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী,  যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যয়ের ক্ষেত্রে 10.1% বৃদ্ধি রয়েছে, যার অর্থ 2021 সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি 7.8 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে।যদি সফল হতে চান তাহলে প্রথমেই নিজের সাথে কমিটমেন্ট করতে হবে – “যে কোন মূল্যে সফল হবোই”। সাধারণ মানুষ এর চাইতে কমিটেড মানুষ দের সাফল্য অনেক গুন বেশি।

 আর এই কমিটমেন্ট টি করতে হবে একদম মন থেকে, আপনাকে আপনি বলবেন – যে কোন মূল্যে আমি সফল হবোই। কমিটমেন্ট করার পর একটি প্লান করবেন – কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, কত টাকা আপনার ইনভেস্টমেন্ট, দিনে কত ঘণ্টা কাজ করবেন, কত ঘণ্টা কাজ শিখার জন্য দিবেন, কি কি ওয়েবসাইট ফলো করবেন ইত্যাদি। কাজ সম্পর্কিত সকল কিছু একটি প্লান এর মধ্যে নিয়ে আসবেন, তাই সব কিছু প্রথমেই প্লান আকারে নোট করে নিবেন।

অনেকেই যেনতেনভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করেন, ফলে কাঙ্খিত সাফল্য পাওয়া তাদের জন্য দুস্কর হয়ে যায়। তবে আপনি যদি সঠিক উপায়ে এটি শুরু করতে পারেন, তবে অনেক ভাল করতে পারবেন । যাই হোক, এখন আমি আপনাকে প্রতিটি স্টেপ একে একে দেখাব।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ইতিহাস

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ইতিহাস কিন্তু অনেক দীর্ঘ, কারন ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জন্মের মাত্র চার বছরের মাথায় এফিলিয়েট মার্কেটিং কনসেপ্টের সূচনা হয়। উইলিয়াম জে টবিন (William J Tobin) সর্বপ্রথম এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রবর্তন করেন।

তিনি প্রথম তার প্রতিষ্ঠানকে PC Flowers & Gifts কে প্রোডিজি নেটওয়ার্কের (Prodigy Network) আওতায় আনেন এবং ১৯৯৮ সাল থেকে তাদেরকে সেলের জন্য কমিশন ব্যবস্থা চালু করেন।

টবিন ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম একটা বিটা ভার্সন চালু করেন এবং ২৬০০ এফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে ১৯৯৫ সালে তার এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেন।

আরো জানুন:- ফাইভার কী এবং কিভাবে ফাইভার কাজ করে? Spandada-2

 ১৯৯৪ সালে CDNow ও ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে Amazon তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করেছিল। তারপর একে একে এফিলিয়েট সিস্টেম অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হতে থাকেন। উল্লেখ যোগ্য কিছু বেষ্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট হলো- Fiverr. Namecheap. Bluehost. Grammarly. Theme Forest. formuladesk. Cj , Sharesale.

একে একে এফিলিয়েট সিস্টেম অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হতে থাকেন।এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তার কোম্পানি অনেক লাভবান হতে থাকেন কারণ সে তার কোম্পানির সেল বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল |

আবার তার কোম্পানির জন্য বেশি লোকের দরকার হতো না কারণ তার প্রোডাক্ট সেলের কাজটি এফিলিয়েট মার্কেটেররাই করতো অতপর, দেখা গেলো ওই পদ্ধতি অন্য অন্য কোম্পানি গুলোও ব্যবহার করতে আগ্রহী হতে লাগলো | তারাও দেখলো আসলেই তো এটি একটি ভালো এবং লাভজনক পদ্ধতি ।

আরো পড়ুন:- Bluehost কি ? Bluehost থেকে ডোমেন এবং হোষ্টিং কেন কিনবেন বিশদ আলোচনা করা হলো।
 

একজন ব্যাবসায়ী তার কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য শুধু তার কি কি প্রোডাক্ট আছে তাই তার সাইটে জানিয়ে দিলো তারপর ওই ব্যাবসায়ীর কাজ শেষ তারপর কাজ শুধু এফিলিয়েট মার্কেটারদের | তখন প্রোডাক্ট বিক্রি হবে ব্যাবসায়ীর, আর কমিশন পাবে এফিলিয়েট মার্কেটারও তখন দুজনই  লাভবান হতে থাকবে ।

একটা সময় কিছু সংখক কোম্পানি তাদের সেল বাড়ানোর জন্য এই এফিলিয়েট মার্কেটিং চালু করে দেখলো তাদের অনেক সেল বাড়ছে |তারপর থেকে আস্তে আস্তে অনলাইনে বিশ্বের বহু কোম্পানি গুলো তাদের এফিলিয়েট মার্কেটিং করিয়ে অনেক উপকার পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে । দেশি বিদেশি কয়েকটি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে এমন কোম্পানির সম্পর্কে ইতি মধ্যে আপনারা হয়তো পরিচিত আছেন এই যেমন ধরেন আমাজান ডট কম, আলিবাবা ডট কম, দেশি ও কিছু কোম্পানি এফিলিয়েট করে তাদের মধ্যে বিক্রয় ডট কম, দারাজ ডট কম , ওয়েব হোস্টিং ইভেন্ট ডট কম ইত্যাদি ।

একটি মজার ব্যাপার দেখুন ওই মালিক পক্ষ কিন্তু এফিলিয়েট মার্কেটারকে চাকরির জন্য কোন নিয়োগ দেয়নি | তারপরও ওই এফিলিয়েট মার্কেটার কিন্তু সেই মালিকের প্রোডাক্ট সেল করানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে কারণ, এতে  তার লাভ নিহিত আসে |এখানে কিন্তু দুই পক্ষই লাভবান হবে তাই কাজ করতে কোন অসুবিধা নাই |  

এই ছিল এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আমার প্রারম্ভিক আলোচনার বিষয়। এ সম্পর্কে আরো বেশি বেশি জানতে আমার সাইটের অন্যান্য পোস্টসমূহের পাশাপাশি অডিও ক্লিপ্সগুলো শুনুন ও ভিডিওসমূহ দেখুন। আশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন।এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকার কারণে মানুষের মাঝে এর প্রতি একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

তাহলে এখন জানার বিষয়টা এফিলিয়েট মার্কেটিং জিনিষটা আসলে কি? আর অপেক্ষা না করে চলুন জানা যাক এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এর বিষয় বিশদ আলোচনা:-

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

যে কোন পণ্য অথবা সার্ভিস এর প্রমোশন করা, প্রচার করা ও ওই পণ্য এর ক্রেতা তৈরি করা। এই মার্কেটিং আপনি যখন অনলাইন এ করবেন সেটা হবে “ডিজিটাল মার্কেটিং”। আপনি যখন আপনার এই “ডিজিটাল মার্কেটিং” স্কিল টা নিজের কোন প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস এর বিক্রয় ও প্রমোশন এর জন্য ব্যাবহার করবেন, তখন সেটা হবে ইন্টারনেট মার্কেটিং। আর আপনি যখন আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল টা ব্যাবহার করে অন্য কারও প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস কমিশন ভিত্তিক প্রমোশন করবেন সেটা হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

তাহলে এবার আমারা জানবো এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে আর এর জন্য আমি প্রথমেই একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে শুরু করবো। যাতে করে আপনারা বুঝতে পারেন আসলে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এবং এর কাজ কি?

আপনি ঘরে বসেই আপনার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্রোডাক্ট প্রোমোট করতে পারেন। আর যখনই আপনি ওই কোম্পানিগুলোর জন্য সেলস নিয়ে আসতে পারবেন তখনই আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেতে থাকবেন। যত সেল করতে পারবেন ততো কমিশন পাবেন। সেল না করেও কমিশন পাওয়া যায় যেটি আমি সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করার সময় বলবো।

তবে এক্ষেত্রে সব থেকে মজার ব্যাপার হলো এই যে প্রোডাক্ট গুলো আপনি প্রমোট করছেন সেগুলো কিন্তু আলটিমেটলি আপনার নিজের কাছে গচ্ছিত রাখতে হচ্ছে না কারণ অনলাইনে অনেক ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাবেন যেগুলো আপনি প্রমোট করতে পারেন। আবার যদি কোন ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করেন (যেমন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং) তবে শুধু তার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ভালো দিক, খারাপ দিক, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি দেখিয়ে আপনার অডিয়েন্সের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

আরো পড়ুন:- বেষ্ট ৫০ ডোমেন এবং হোষ্টিং সাইট বিষয়ে আলোচনা
 

তাই আপনি এক দেশে বসে অন্য দেশের কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রোমোট করে ভালো অংকের এফিলিয়েট কমিশন পেতে পারেন।এফিলিয়েট মার্কেটিং এতটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কাজের এই ফ্লেক্সিবিলিটি একটি অন্যতম কারন।আপনি চাইলে আপনার ঘরে বসে বা আপনার অফিসে বসে অথবা কোন সী বিচে বসেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।বিশ্বের এমন অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যারা সারা বছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন।

তাদের জীবনটা এতটাই রোমাঞ্চকর যে তাদের কোন ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত বোরিং জব করতে হয় না। আবার তাদের অর্থ নিয়ে কোন চিন্তা করতে হয় না কারণ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেক আয় করা যায়। একই সাথে তারা পেয়ে যান সময়ের স্বাধীনতা। তাই সময়, অর্থ ও ভ্রমণের স্বাধীনতা এই তিনটিকে একই সাথে পেতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জুড়ি নেই।

আরো পড়ুন:-  10 Best Bangladeshi eCommerce site for 2020
 

আসুন এ বিষয়টা একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করি। ধরুন আমার একটি ঘড়ির দোকান আছে। কিন্তু সেটি একটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ার কারণে ঘড়ি ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমি ভালো মানের ক্রেতা পাইনা। আর আপনি আমার দোকানের ঘড়ির মান দেখে প্রায় সময়ই আমার দোকানে আসেন।তো আমি আপনাকে একদিন বললাম যে, ভাই আপনি যদি আমার দোকানে বেশি লোকজন আনতে পারেন এবং আপনার আনা মানুষ জনের কাছে আমি ঘড়ি বিক্রি করতে পারি তাহলে আপনার চেনা মানুষের কাছে ঘড়ি বিক্রি করে আমার যা লাভ হবে তার নির্দিষ্ট একটি অংশ আমি আপনাকে দিয়ে দিব।এখন দেখা গেলো যে প্রস্তাবটি আপনি সহজে মেনে নিলেন। এখন থেকে আপনি প্রায় সময়ই আমার দোকানে নানা প্রকার মানুষ আনেন।

তারা আমার দোকান থেকে ঘড়ি কিনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং তার বিনিময়ে আপনারও কিছু বাড়তি আয় হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আমার দোকানও আগের থেকে বেশি বেচাকেনা হতে লাগল। এতে করে আমার ব্যবসায়ও ভালো লাভ হতে লাগল। এই যে একটি উদাহরণ পড়লেন, মূলত এটাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি যদি অনলাইনে কাউকে কোন বস্তু বিক্রি করার জন্যে ক্রেতা এনে যোগার করে দিতে পারেন তাহলে ঐ ব্যাক্তি আপনাকে আপনার ক্রেতার বিক্রি করে পাওয়া টাকার একটা নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে দিবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কে কে লাভবান হন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা পেতে আমি একটি উদাহরণ পেশ করতে যাচ্ছি। আশা করি এর মাধ্যমে আপনি সহজে জানতে পারবেন, যে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কে কে লাভবান হন।

 ধরুন আপনার একটি কফি শপের দোকান আছে, এবং সেখানে বেচা-কেনা ভালোই হয়। আপনারই এক বন্ধু আপনার কফি শপে প্রায়ই আসে এবং আপনার কফি তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎ আপনি চিন্তা করলেন যে আপনার বন্ধু কে বলবেন, সে যেন তার পরিচিতজনদের আপনার শপে নিয়ে আসেন ও কফি পান করান।তার বিনিময়ে আপনি আপনার বন্ধুকে প্রতি পার্সন আনার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

 এর বিনিময়ে আপনি ও আপনার বন্ধু উভয়ই লাভবান হবেন, কারণ আপনি আরও বেশি কাস্টমার পাবেন যা আপনার ব্যবসার মুনাফা বহুগুনে বাড়িয়ে দেবে, আর অপর দিকে আপনার বন্ধু ও লাভবান হবেন কারণ তিনি আপনার কাছ থেকে একটি কমিশন পাচ্ছেন।

 তাই সে বেশি বেশি মানুষকে আপনার শপের দিকে আনার চেষ্টা করবে কারণ যত বেশি লোক সে নিয়ে আসতে পারবে, তত তার কমিশন এর পরিমান ও বাড়তে থাকবে। আর আপনার কফির কোয়ালিটি যেহেতু ভালো, তাই তার মাধ্যমে আসা লোকজন ও কিন্তু ঠকছে না!

এভাবে দেখুন যে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে শ্রেণীর মানুষের উপকার হচ্ছে

প্রথম লাভবান হলেন আপনি যাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভাষায় মার্চেন্ট বলা হয় (যার প্রোডাক্ট, তাকে মার্চেন্ট বলে)।

দ্বিতীয় লাভবান হলেন আপনার বন্ধু যাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভাষায় এফিলিয়েট মার্কেটার বলা হয় (যে প্রোডাক্ট প্রমোট করে তাকে এফিলিয়েট মার্কেটার বলে)।

তৃতীয় লাভবান হলেন আপনার বন্ধুর মাধ্যমে আসা আপনার গ্রাহকগণ কারণ তারা একটা ভালো কফি শপ তথা প্রোডাক্টের সন্ধান পেলো।

এভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি ব্যবসার, এফিলিয়েট মার্কেটার, ভোক্তাদের জন্য সমানভাবে কাজে আসে।

আরো পড়ুন:- অনলাইনে কোনটি সেরা ? এফিলিয়েট মার্কেটিং , ফ্রীল্যানসিং নাকি ব্যবসা।
 

আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনি এখন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকের মাঝেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আমি এটা বুঝতে পারছি কারন আমার বিভিন্ন ব্লগে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে আমি অনেককেই এই মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছি তবে সবকিছুই ছিল ছাড়া ছাড়া, তাই মনে হল যে আজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর একটি বিশদ আলোচনা করা যাক যার ফলে কেউ যদি আমার এই কন্টেন্টটি দেখে তবে তার আর এ সম্পর্কে জানতে কিছু বাকি থাকবে না। তো বন্ধুরা আপনারা যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ডিটেইলড একটি কনটেন্ট চাচ্ছেন তাদের জন্য আমার এই কন্টেন্টটি যথেষ্ট। তো আর দেরি না করে পুরো ব্যাপারটি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জেনে নিন।

(প্রথম থেকে শেষ পযর্ন্ত আপনি কন্টেন্টটি পড়লে আমার ধারনা আপনাকে অন্য আর কোন কন্টেন্ট পড়ে জানতে হবে না। এফিলিয়েট মার্কেটিং সর্ম্পকে।)

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে আপনার টি টপিক জানা লাগবে

যদি আপনি নিজে নিজের বস হতে চান, ঠিক আমার মতো! এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে আপনাকে আগে তিন বিষয় জানা খুবিই দরকারী হয়ে পড়ে তা হলো:

1.আপনাকে প্রথমে আপনার সাইটে নিশ সিলেক্ট করতে হবে ।

2.কিভাবে ও কোথা থেকে আপনি আপনার পছন্দের নিশ থেকে ভাল মানের কমিশন ও ভাল পোডাক্ট পাবেন তার দিকে খেয়াল রাখবেন ।

3.আপনার পছন্দের নিশ থেকে কিভাবে অনলাইন থেকে মার্কেটিং করে ভাল কমিশন পাবেন তার উপর ভিক্তি করে আপনি নিশ র্নিবাচন করবেন । কারন ভাল নিশ নির্বাচন করতে পারলে আপনি খুব সহজে আয় করতে পারবেন ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত শ্রেণি

উপরের উদাহরণটিতে আপনি দেখতে পেয়েছেন যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি শ্রেণি কাজ করে থাকে। এখন আমরা এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রথমে কফিশপের মালিক যিনি কমিশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি হলেন মার্চেন্ট (merchant) বা রিটেইলার (retailar)। 

দ্বিতীয় যে ১০০ জন ওই কফি শপে নতুন নতুন কাস্টমার নিয়ে এসেছিল তাদেরকে অ্যাফিলিয়েট বলা যায়।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেহেতু অনলাইনেই করা হয়ে থাকে তাই অধিকাংশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে থাকেন আর এজন্য তাদেরকে পাবলিশার (publisher) বলেও ডাকা হয়।

আরো পড়ুন:- ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন সেভাবে
 

 তৃতীয় কাস্টমার কারা এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার যাদেরকে মার্র্চেন্ট এর প্রোডাক্ট এর প্রতি আগ্রহী করে সেল নিয়ে আসে তাদেরকেই কাস্টমার (customer) বলা হয়ে থাকে।

 এই তো গেল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত ৩ শ্রেণী। এখন আরও একটি শ্রেণী নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি যার নাম হলো নেটওয়ার্ক (network) বা এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক

 চর্তুথ অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হল তারা যারা বিভিন্ন মার্চেন্টের অ্যাফিলিয়েট অফারসমূহ বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটারের কাছে প্রকাশ করে যেমন আমরা বলতে পারি কমিশন জংশন, ক্লিকব্যাংক, রাকুটেন মার্কেটিং ইত্যাদি হল বিভিন্ন নেটওয়ার্ক। অনেক সময় মার্চেন্ট নিজে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ঝামেলা সমূহ এড়ানোর জন্য এরকম অনেক নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত হন ফলে তারা খুব সহজেই এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামটি চালাতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন

এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন:-

কেন করবেন তা করার পেছনে অনেক কারন আছে, তবে আমি এখানে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রধান কিছু সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো। কারন এগুলো খুবিই জানা দরকার । তাহলে  আপনারা পরিষ্কার হয়ে যাবেন । এফিলিয়েট মার্কেটিং করার পেছনে

১।প্রথম কারন হল এটি সম্পূর্ণই প্যাসিভ আয় মডেল আর প্যাসিভ আয় মানে হল যে আয় করতে গেলে আপনাকে সরাসরি প্রতিটি মুহূর্ত আপনার ব্যবসার সাথে লেগে থাকতে হবে না।যেহেতু এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে সবসময় একটি ধরাবাঁধা রুটিন মেনে কাজ করতে হয় না, তাই একজন এফিলিয়েট মার্কেটার সময়ের সর্ম্পুণ স্বাধীনতা পেতে পারেন।

২।এফিলিয়েট মার্কেটিং এ অর্থের ও স্বাধীনতা পাওয়া যায় কারন এ ব্যবসাটি একবার ভালমত দাঁড়িয়ে গেলে আপনাকে আর আয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, দেখবেন যে বিভিন্ন সময়ে এফিলিয়েট কমিশন আপনার একাউন্টে জমা হচ্ছে।

৩।এফিলিয়েট মার্কেটিং এ সময় ও অর্থের স্বাধীনতা পাওয়া যায়, তাই এ থেকে ভ্রমণেরও ব্যাপক সুবিধা আছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়া অন্য কোন পেশাতে এতটা স্বাধীনতা পাওয়া যায় না।

৪।নিজেই নিজের বস হওয়া যায় ফলে কখন কোন কাজ করবেন না করবেন তার ডিসিশন আপনি নিজেই নিতে পারবেন।তো বন্ধুরা উপরোক্ত সুবিধাগুলো খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন যে এফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কতটা আনন্দময় একটি পেশা।

৫। এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে কোনো ইনভেস্ট করার দরকার হয় না।

৬। কোনো নিজস্ব প্রোডাক্ট থাকার দরকার হয় না

৭।.  এখানে কোন ধরা বাধা প্রোডাক্ট প্রমোট সেল করার অনুমতি নায়। আপনি আপনার পছন্দমতো প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারবেন।

আরো পড়ুন:- ব্যাকরণ কী? ব্যাকরণ কেন ব্যবহার করবেন? এবং আমি ব্যাকরণ কেন ব্যবহার করি?
 

৮। আপনি ঘরে থেকে যখন খুশি, যেমন খুশি কাজ করতে পারবেন।

৯। প্রোডাক্টের আফটার সেলস সার্ভিস নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না।

১০। আপনার যখন ভালো ইনকাম আসা শুরু করবে তখন আপনি এটাকে ফুলটাইম ক্যারিয়ার হিসাবে গড়ে তুলতে পারবেন।

১১। আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করেন। তবে আপনি যখন খুশি, যেখানে খুশি যেকোনো সময় ভ্রমণে যেতে পারবেন। কারন আপনি যেকোন জায়গাতে এ কাজটি করতে পারবেন।

১২। বিভিন্ন কোম্পানির কাছে যথেষ্ট কদর পাওয়া যায়।

তবে আবারো সতর্ক করে দেই কারন এর শুরুতে প্রচন্ড খাটাখাটনি করতে হবে, তা না হলে সুখের দেখা কখনই পাবেন না।আমার চেনা এমন অনেকে আছেন যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে ছিল, কিন্তু এমন সময়ে তারা এ কাজটি ছেড়ে দেন যে আর মাত্রকয়েকটা দিন কস্ট করলেই কিন্তু তারা রেজাল্ট পেয়ে যেতেন।

এমন অনেককে আছে যাদেরকে বুঝিয়ে বললেও তারা সেদিকে কোন খেয়াল করে না।আসলে আমাদের দেশের অধিকাংশের মানসিকতা হল এক টাকা পেলে আজই পেতে হবে, ১০০ টাকা পাওয়ার জন্য ১০ দিন অপেক্ষা করতে পারবো না।তাই বলছি কোন কাজ শুরু করলে তা শেষ করার অভ্যাস করুন । ফল পাবেন আর যদি অর্ধেক পথে আপনি কাজটি ছেড়ে দেন তবে কি হতে পারে আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।আপনার পরিশ্রম মাটি হয়ে যাবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কারন কি?

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কারন:-

এফিলিয়েট মার্কেটিং এতটা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো যে উপরে উল্লেখিত চারটি শ্রেণী এর মাধ্যমে ব্যাপক উপকৃত হচ্ছেন।

 প্রথমে যিনি উপকৃত হচ্ছেন তিনি হল মার্চেন্ট কারণ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে তিনি অধিক পরিমাণ সেল পাচ্ছেন। আর এর জন্য তার কোন টেনশন করতে হচ্ছে না, কারণ তাকে মাসিক বা ঘন্টা ভিত্তিক কাউকে নিয়োগ দিতে হচ্ছে না। যখনই কেউ তার প্রোডাক্ট সেল করতে পারছে তখন তাকে তার প্রফিট থেকে কমিশন দিতে হচ্ছে।

দ্বিতীয় উপকার পাচ্ছেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কারণ তিনি মার্চেন্ট এর প্রোডাক্ট প্রোমোট করে তা বিক্রির মাধ্যমে কমিশন পাচ্ছেন। তার নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট তৈরি করতে হচ্ছে না কোন গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি দিতে হচ্ছে না। তাকে শুধু প্রোডাক্টের গুনগত মান সম্পর্কে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন:- ব্যাকরণগত প্রিমিয়াম পর্যালোচনা ২0২০

তৃতীয় লাভবান হচ্ছেন কাস্টমার কারণ বর্তমানে অধিকাংশ ক্রেতাই কোন পণ্য কেনার আগে অনলাইনে সার্চ করে তা সম্পর্কে বিভিন্ন জনের মন্তব্য এবং এর খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেন আর তারা এই ইনফরমেশন সমূহ বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সাইটে পাচ্ছেন।

বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সাইটে এই সমূহ তথ্য তাদের প্রোডাক্ট কেনার ব্যাপারে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সাহায্য করছে।এর ফলে অনেক সুবিধা হচ্ছে।

এবং চতুর্থ শ্রেণি তার মানে অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক কিন্তু মার্চেন্ট ও অ্যাফিলিয়েট এর মাঝে একটি সেতুবন্ধন করে তিনি ও মুনাফা অর্জন করতে পারছেন।

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে চারটি শ্রেণি ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন, আর এভাবেই দিনে দিনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

 এফিলিয়েট মার্কেটিং কতো ধরনের হয়ে থাকে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এখন আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করব। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার কে তার কমিশন কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হবে তার ওপর নির্ভর করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১। রেভিনিউ শেয়ারিং (revenue sharing)

২।পে পার সেল (Pay Per Sale সংক্ষেপে PPS)

এবং দ্বিতীয় ভাগটি হলো কস্ট পার একশন (cost per action) বা সি পি এ (CPA)।

 বিভিন্ন ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা:-

 

১।রেভিনিউ শেয়ারিং (Revenue Sharing):

 রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে একজন মার্চেন্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিক্রির মাধ্যমে যে আয় করে তার একটি অংশ অ্যাফিলিয়েট বা পাব্লিশারের সাথে শেয়ার করে আর এ জন্যই একে বলে রেভিনিউ শেয়ারিং।

ধরুন একজন মার্চেন্ট এর একটি প্রোডাক্ট এর দাম হল ২০০০ টাকা। সে একজন এফিলিয়েটের কাছ থেকে একটি সেল পেল এবং তখন সে এই ২০০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা ওই এফিলিয়েটকে দিয়ে দিল। তাহলে এখানে কি হল? মার্চেন্ট যে রেভিনিউ করছে তা থেকে তার এফিলিয়েটের সাথে শেয়ার করছে।

 আমি যেমন আমার spandada.com সাইটে একটি প্রডাক্ট প্রমোট করি যার নাম হল গ্রামারলি (Grammarly) যাদের কাছ থেকে আমি প্রতিটি ২৯ ডলারের সেল থেকে ২০ ডলার পাই। তার মানে হল আমার মার্চেন্ট ২৯ ডলার থেকে আমাকে বা তার অন্যান্য এফিলিয়েটদের ২০ ডলার দিয়ে দিচ্ছে। এটি একটি বড় ধরনের এ্যামাউন্ট। এখানে তারা এফিলিয়েট মার্কেটরদের অনেক সুবিধা দিয়ে থাকে।

২।সি পি (CPA) মার্কেটিং :

কস্ট পার একশন (CPA) মার্কেটিং এ সরাসরি কোন রেভিনিউ শেয়ার করা হয় না বরং মার্চেন্ট এর বলে দেয়া অ্যাকশন এর উপর নির্ভর করেই অ্যাফিলিয়েট কে কমিশন দেওয়া হয়।

মনে করুন কোনো মার্চেন্ট বলল যে আমার জন্য যারা লিড জেনারেট করতে পারবে বা আমার এই ফর্মটা যারা পূরণ করাবে তারা একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাবে তাহলে এটি হবে সিপিএ মার্কেটিং। এখন সিপিএ মার্কেটিং টা অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয় এ কারণে যে এই পদ্ধতিতে অ্যাফিলিয়েট কে কোন প্রোডাক্ট সেল করতে হয় না বরং যেকোনো একটি অ্যাকশনের কারণেই সে কমিশন পেতে পারে। তবে রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে অনেক বেশি কমিশন পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন:- ইউটিউবে ভিউ কত হওয়ার পর আয় শুরু করা যায়?
 

অনেক মার্চেন্ট রেভিনিউ শেয়ারিং ও সিপিএ উভয় পদ্ধতিতে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে যেমন Grammarly ফ্রি একাউন্ট কেউ যদি আমার লিঙ্ক থেকে ওপেন করে, তবে আমি পাই ২০ সেন্ট আর এটি হল একধরনের সিপিএ মার্কেটিং।

আবার এফিলিয়েট কে কতবার কমিশন দেয়া হবে, তার ওপর নির্ভর করে এফিলিয়েট মার্কেটিং কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় আর তা হলো :-

১।সিঙ্গেল টায়ার

২। টু টায়ার বা মাল্টি টায়ার।

১।সিঙ্গেল টায়ার (Single-Tier):-

সিঙ্গেল টায়ার এফিলিয়েট মার্কেটিং এ মার্চেন্ট তার এফিলিয়েটকে প্রতিটি সেলের জন্য মাত্র একবারই কমিশন দেয়। যেমন গ্রামারলি আমাকে প্রতিটি সেল করতে পারলে ২০ ডলার দেয় আর এটি হল সিঙ্গেল টায়ার।

২।টু টায়ার (Two-Tier) বা মাল্টি টায়ার (Multi-Tier):-

এ ধরনের মডেলে একজন এফিলিয়েট তার মাধ্যমে আনা গ্রাহকদের প্রত্যেকের সেল থেকেও কমিশন পান। মনে করুন A একজন এফিলিয়েট যিনি B ও C কে কোন এক মার্চেন্টের প্রোগ্রামে যুক্ত করল। এখন B ও C এর প্রতিটি সেলেও A একটি কমিশন পেতে থাকবেন। এই মডেলটা অনেকটাই এম এল এম (MML) সিস্টেমের মত হলেও মার্চেন্টের মানসম্মত প্রোডাক্ট থাকার ফলে এখানে কোন প্রতারণা নেই।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন। যে আপনি কতো ধরনের এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করলে কিভাবে কমিশন পাবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো?

এখন আমি আলোচনা করবো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার ১০ টি ধাপ। এ মোতাবেক কাজ করলে আমি নিশ্চিত সাফল্য আমার হবে গ্যারান্টি। আপনাকে এই ১০ টি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে অতিক্রম করতে হবে যদি আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান।

তাহলে আর দেরি না করে আলোচনা শুরু করা যাক :-

ধাপ নাম্বার- ১:- নিশ বাছাই করা

এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা অন্য যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে সব থেকে প্রথমে যে জিনিসটি করতে হয় সেটি হলো নিশ সিলেকশন।

নিশ সিলেকশন কি?

মনে করুন আপনি একটি ব্যবসা করবেন, এখন ব্যবসাটি কোন জিনিস নিয়ে করবেন? একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে নিশ হলো ওই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু। আপনি হয়তো ইতোমধ্যে অনেক সাইট দেখেছেন যা ভিন্ন ভিন্ন নিশ নিয়ে গড়ে উঠেছে। এই যেমন আমার এই সাইটটিতে আমি অনলাইন বিভিন্ন ব্যবসা শুরু করা ও যেকোনো ব্যবসার ইনকাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।

তাই আপনি আমার ওয়েবসাইটটিকে একটি টাকা আয় (Income Generation) সংক্রান্ত ওয়েবসাইট বলতে পারি। এখন আপনারও প্রথমে আপনার সাইটের জন্য একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে।এটা এজন্য যে পূর্ব থেকেই একটি নিশ সিলেক্ট করে ওয়েবসাইট শুরু করলে অনেক দ্রুত সাফল্য পাওয়া যায়। অনলাইনে আপনি অজস্র নিশ পাবেন। যার মধ্যে থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের নিশ। আমি কিছু নিশ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম

এখানে কিছু নিশের আইডিয়া দেয়া হলো:

কোনো প্রোডাক্ট, মোটিভেশনাল,ওয়েট লস, ডায়েট, ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইনিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, হোম ডেকোরেশন, ক্যরিয়ার ডেভেলপমেন্ট, ইনফরমেশন, অনলাইনে আয়, ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং, ভ্রমণ, শেয়ার বাজার, নিউজ, জোকস, উক্তি, লাইফ হ্যাক, হেলথ টিপস, বিউটি টিপস, রান্নাবান্না, ব্যবসায়িক আইডিয়াস, ব্যবসায়িক পরামর্শ, ডিজিটাল মার্কেটিং, এস ই ও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, পড়াশুনা ইত্যাদি

 আপনি যখনই আপনার সাইটের নিশ সিলেক্ট করবেন, তখন ২ টি জিনিস সবর্দা মাথায় রাখবেন। তা হলো

. আপনার পছন্দ  . আপনার জ্ঞান

একটু ব্যাখ্যা দেয় আপনি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেন, তার ওপর আপনার সাইটটি খুলুন, তাহলে দেখবেন যে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখতে মজা লাগছে।

এটা এমন নয় যে আপনার অনেক কিছুই জানতে হবে, তবে কিছু খুঁটিনাটি প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে আপনি পরবর্তীতে রিসার্চ এর মাধ্যমে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং লিখতে পারবেন। যেহেতু বিষয়টি আপনার পছন্দের। এবং এ বিষয়ে আপনার কিছুটা জ্ঞান আছে।

ধাপ নাম্বার- ২:- প্রোডাক্ট বাছাই করতে হবে

প্রথমে আপনাকে যেটি করতে হবে তা নিশ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি গুগোল র্সাচ দিয়ে ভালো মানের নিশ সিলেক্ট করতে পারেন। এজন্য আপনি চাইলে SEMrush Keyword এর সাহায্য নিতে পারেন। এখান থেকে আপনি আপনার মনে মতো নিশ সিলেক্ট করতে পারবেন। নিশ সিলেক্ট হয়ে গেলে এরপর আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রোডাক্টসমূহ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি যদি নিশ সিলেক্ট করে ফেলেন তখন আপনার প্রোডাক্ট সিলেকশন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সব থেকে বড় কথা হল যে আপনি অজস্র প্রোডাক্ট প্রোমোট করে খুব ভালো করতে পারবেন না। তাই আপনি সেই সমস্ত প্রোডাক্ট প্রোমোট করবেন। যে সমস্ত প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনি ভালো মত জানেন ও বোঝেন। আর সব থেকে ভালো হয় যদি আপনি প্রোডাক্টগুলো নিজেই ব্যবহার করে ভাল রেজাল্ট পেয়ে থাকেন।

নিশ সিলেক্ট হয়ে গেলে আপনি এটি ক্রয়ের জন্য Namecheap, Bluehost, Domain.com, iPage থেকে কিনতে পারেন। খুব স্বল্প মূল্যে আপনি নিশ পেয়ে যাবেন।

ধাপ নাম্বার- ৩:- ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে

আপনার নিশ ও প্রোডাকট সিলেকশন হয়ে গেলে এবার আপনাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে। এই ওয়েবসাইটটি আপনি নিজেই খুলতে পারবেন। আমি আবারও বলছি কারো কাছে না গিয়ে নিজে নিজে চেষ্টা করুন আপনি পারবেন। এ জন্য বলছি যে আপনি যদি নিজেই আপনার ওয়েবসাইট খুলেন তবে তা হবে সর্বোচ্চ সিকিউরিটির ব্যাপার এবং ওয়েবসাইট খোলা খুবই সহজ একটি ব্যাপার

কিভাবে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন তার বিষয়ে জানতে এই লিংকে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

আপনি ওয়েবসাইট সাইট খুলতে এ সমস্ত বিশ্বস্ত সাইট থেকে খুলতে পারেন। Namecheap, Bluehost, Domain.com, iPage, HostGator, এখানে তারা খুব ভালো ডোমেন ও হোষ্টিং বিক্রি করে থাকে, এবং ছাড় দিয়ে থাকে।

ধাপ নাম্বার- ৪:- ভালোভাবে ওয়েবসাইট সেটআপ করতে হবে-

শুধু ওয়েবসাইট খোলা শেষ হয়ে গেলে বসে থাকলেই হবে না আপনাকে ওয়েবসাইটটি ঠিকঠাক মত সেটআপ করে নিতে হবে। এই সেটআপ করে নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি এই লিংকে। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে। ওয়েবসাইট সেটআপ করতে আপনার যা লাগে তা হলো ভালো Theme, Plugin এগুলো মাধ্যমে আপনার সাইটের সুর্ন্দয্য বৃদ্ধি পায়। আপনি চাইলে আমার বিশ্বস্ত সাইট ThemeForest থেকে কিনতে পারেন।

ধাপ নাম্বার- ৫:- ওয়েবসাইট অপারেট করা শেখা

আপনার ওয়েবসাইট সুন্দর মত সেটআপ হয়ে গেলে। এখন আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট টুকটাক ব্যবহার করতে শিখতে হবে ।যদি আপনি ইতোমধ্যে এটি না শিখে থাকেন।

তবে তা আস্তে আস্তে শিখে নিতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে কাজ শেখা তেমন কিন্তু খুব কঠিন কিছু না। এ কাজটি খুবই সহজ। একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অপারেট করা ফেসবুক চালানোর মত সহজ ।

ধাপ নাম্বার- ৬:- ভালো মতো এস (SEO) শেখতে হবে-

এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই এস জানতে হবে। কারণ এসইও জানবেন এ কারণে যে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন তথা গুগল, ইয়াহু এরকম সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে হবে। আর এজন্য আপনাকে আপনার আর্টিকেল বা কনটেন্ট সমূহ rank করাতে হবে।

কিন্তু আপনি যদি এসইও ভালো মতো না করতে পারেন তাহলে আপনার কনটেন্ট rank করবে না আর rank না করলে আপনি ওয়েবসাইট ভিজিটর ও পাবেন না। তাই আপনাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই এস জানতে হবে।

এসইও শিখতে নিচের কন্টেন্টগুলো পড়তে পারেন। মনে হয় এর মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন।

       এস ও কি? এস ও কেন করবেন বিশদ আলোচনা কর?

 

ধাপ নাম্বার-৭:-বেশি বেশি কনটেন্ট তৈরী করতে হবে:-

এসইও শিখা মোটামোটি শেষ করা হয়ে গেলে। এবার আপনারকে যে কাজটি করতে হবে এটি হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর সে কাজটি হলো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তো একটি ওয়েবসাইট এর জন্য মেইন কন্টেন্ট হল আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট।

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য বেশি বেশি আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট তৈরি করতে হবে। যত বেশি ভালো কনটেন্ট আপনার সাইটের জন্য তৈরি করতে পারবেন ততবেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারবেন।

আপনি যত বেশি ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারবেন ততবেশি প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন, তাই এফিলিয়েট কমিশন ততো বেশি পাওয়া যাবে।

তো নিচে আমি একটি লিংক দিয়েছি সেখানে সুন্দর আর্টিকেল লেখার নিয়ম কানুন দেওয়া আছে আপনি সেটি ফলো করে নিয়মিত ভালো ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে থাকুন ও তা আপনার সাইটে পাবলিশ করুন।

আরো পড়ুন: কিভাবে সুন্দর কন্টেন্ট তৈরি করা যায়?

আপনার কন্টেন্টের গ্রামার বা ব্যাকরন ঠিক হচ্ছে কিনা তা জানা জন্য আপনি Grammerly Software ব্যবহার করতে পারেন। কারন Grammerly আপনার লেখাকে সঠিক ও সুন্দর করে তোলে। এ বিষয়ে আরো ভালোভাবে জানতে ভিজিট করুন:-

আরো পড়ুন:- Grammerly কি? Grammerly কেন করবেন বিশদ আলোচনা কর?

ধাপ নাম্বার- ৮:- ওয়েবসাইট ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে:-

আপনার ওয়েব সাইটে ভালো কনটেন্ট তৈরি করার পরে আপনার কাজ শেষ না। এরপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আপনাকে ব্যস্ত থাকতে হবে। সেটি হল আপনার সাইটে বেশি বেশি ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে।

এই জিনিসটা অন্যের উপর ভরসা করে থাকলে হবে না। আপনার নিজেরও চেষ্টা করতে হবে যে কিভাবে আপনার সাইটে বেশি বেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। তো আমরা কিছু ট্রাফিক জেনারেশন টেকনিক আপনাকে বলে দিতে পারি। এর বাইরে ও আপনি আপনার নিজস্ব টেকনিক এপ্লাই করতে পারেন। যে টেকনিকই এপ্লাই করেন না কেন সেটি যেন হয় বৈধ।

নিচে ওয়েবসাইট ভিজিটর আনার বিভিন্ন পদ্ধতি দেখানো হলো।

ট্র্যাফিক ব্যতীত আপনার ব্লগের কোনও মূল্য নেই। ট্র্যাফিক মানে আপনার ব্লগের দর্শক। সুতরাং আপনার ব্লগে আপনি যত বেশি দর্শক পাবেন, আপনার ব্লগের সাথে আপনি তত বেশি মান তৈরি করতে পারবেন।

আমি কীভাবে আপনার ব্লগে ট্র্যাফিক পেতে পারি সে সম্পর্কে কথা বলব। ট্র্যাফিক পাওয়ার বিষয়ে একটি বিস্তৃত আলোচনা হবে, তাই আপনাকে অবশ্যই এটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

আরো পড়ুন: ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কিভাবে বেশি বেশি ট্রাফিক পাওয়া যায়?

ধাপ নাম্বার-৯:- ইমেইলে কালেক্ট দিতে পারেন:-

আপনার যত বেশি ইমেইল সাবস্ক্রাইবার থাকবে, তত বেশি আপনি আফিলিয়েট কমিশন পাওয়ার আশা করতে পারেন। এর কারণ হলো যারা আপনাকে তাদের ইমেইল দিচ্ছে যে আপনি তাদেরকে আপনার কন্টেন্ট পাঠান তারা কিন্তু আপনাকে বিশ্বাস করে দিচ্ছে।

আপনার কনটেন্ট তাদের ভালো লাগে এজন্যই দিচ্ছে। তো তাদের সাথে প্রতারণা করা যাবেনা। তাদেরকে আপনি আপনার ভালো কন্টেন্ট পাঠান এবং এই কন্টেন্টে আপনার কিছু এফিলিয়েট প্রোডাক্টস রেকমেন্ড করে দিতে পারেন।

এজন্য একেবারে প্রথম থেকেই যেদিন থেকে আপনি আপনার সাইটে কনটেন্ট শুরু করছেন সেদিন থেকে ইমেইল কালেক্ট করা শুরু করুন।

ধাপ নাম্বার- ১০:- এফিলিয়েট প্রোডাক্ট সাইন আপ করে তা প্রমোট করা

আপনার এখন যে কাজটি করতে হবে সেটি হল বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ যুক্ত হতে হবে এবং এই কাজটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে করা যায়। আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মার্কেটপ্লেসে যেয়ে সাইন আপ করুন এবং সেখান থেকে আপনার ইউনিক এফিলিয়েট লিংক কালেক্ট করুন এবং ওই লিংকসমূহ আপনার আর্টিকেলের বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করুন।

যখনই কোনো ট্রাফিক বা আপনার কোন ভিজিটর ওই লিংকে ক্লিক করে আপনার রেকমেন্ডেড প্রোডাক্টটি কিনবে তখনই কিন্তু আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন। তাই এর থেকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ভালো প্যাসিভ ইনকাম আর হয় না।

আমি একটি উদাহরনের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা কনলাম আপনি কিভাবে বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত হবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে কীভাবে আবেদন করবেন?

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে যোগ দিতে চান, আপনাকে এক বা একাধিক অধিভুক্ত এফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। চিন্তা করবেন না কারণ আবেদনের প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ এবং আপনার এটির জন্য কোনও অর্থ দিতে হবে না। এই ব্লগ পোস্টে, আমি আপনাকে বেশ কয়েকটি অনুমোদিত বিপণন প্রোগ্রামের অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়াটি দেখাব। আশা করি আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে যোগ দিতে হয়ে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামগুলিতে আবেদন করবেন যেভাবে:

মনে রাখবেন যে আপনি সরাসরি বা অনুমোদিত এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম মার্কেটপ্লেস থেকে কোনও পণ্যের অনুমোদিত বিপণন প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারেন। এখানে এই পোস্টে, আমি আপনাকে উভয় উপায়ে দেখাব।

১। প্রথমমে স্বতন্ত্রভাবে একটি অনুমোদিত বিপণন প্রোগ্রামের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়াটি শিখুন।

  অনেক পণ্য সম্পর্কিত এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রামে তাদের ওয়েবসাইট রাখা হয়। বেশিরভাগ সময়, আপনি যদি কোনও পণ্যের সাইটের নীচে যান, তবে আপনি Affiliate বা  Become an Affiliate এর মতো শব্দটি খুঁজে পেতে পারেন।

আপনি যদি উপরের কোনও শর্তাদি দেখতে পান তবে এটিতে ক্লিক করুন এবং এটি আপনাকে একটি অনুমোদিত অ্যাকাউন্ট তৈরি করার প্রক্রিয়াটি দেখায়।

 

ধরুন আপনি SEMrush এর এফিলিয়েট প্রোগ্রামে নিবন্ধন করতে চান। যেহেতু SEMrush অনুমোদিত পন্য বিক্রয় করতে তাদের নিজস্ব সিস্টেম ব্যবহার করে, আপনি আলাদাভাবে SEMrush এর জন্য Affiliate একটি অ্যাকাউন্টের জন্য নিবন্ধন করতে পারেন।

এটি করতে, SEMrush এ যান এবং সাইটের নীচে যান। আপনি নীচে সাবধানে তাকান, আপনি Affiliate Program বিভাগ দেখতে পাবেন। বিভাগটিতে ক্লিক করুন এবং আপনাকে SEMrush এর অনুমোদিত প্রোগ্রামে পরিচালিত হবে be SEMrush তাদের অনুমোদিত প্রোগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে BeRush.com নামে অন্য কোনও সাইটে নিয়ে যাবে।

সুতরাং, একটি Affiliate Program অ্যাকাউন্টে সাইন আপ করুন এবং আপনার সাইটে SEMrush প্রচার শুরু করুন।

একটি এফিলিয়েট মার্কেটর হওয়ার কারণগুলি কী কী?

প্যাসিভ ইনকাম:-

যে কোনও “নিয়মিত” কাজের জন্য আপনাকে অর্থোপার্জনের কাজে থাকা প্রয়োজন, এফিলিয়েট প্রোগ্রাম আপনাকে আপনার ঘুমের সময় ও অর্থোপার্জনের সক্ষমতা সরবরাহ করে। একটি প্রচারণায় প্রাথমিক সময় বিনিয়োগ করে, আপনি পরের দিন এবং সপ্তাহগুলিতে গ্রাহকরা পণ্যটি কেনার সাথে সাথে অবিচ্ছিন্ন রিটার্ন দেখতে পাবেন।

আপনি এটি শেষ করার পরে আপনার কাজের জন্য অর্থ পাবেন। এমনকি আপনি যখন আপনার কম্পিউটারের সামনে না উপস্থিত থাকেন, আপনার বিপণন দক্ষতা আপনাকে আয়ের একটি অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ উপার্জন করবে। আপনি এভাবে বিভিন্ন উপায়ে প্যাসিভ ইনকাম করতে থাকবেন।

কাজের ভিত্তিতে পুরষ্কার:

অন্যান্য কাজের সাথে আপনি সপ্তাহে ৮০ ঘন্টা কাজ করতে পারবেন এবং এখনও একই বেতন উপার্জন করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং নিখুঁত আপনার কর্মক্ষমতা উপর ভিত্তি করে। আপনি যতো টুকু সময় কাজ করেন না কেন এর ফল আপনি সারা জীবন পেতে থাকবেন।

বাড়ি থেকে কাজ।

আপনি যদি অফিসে যেতে ঘৃণা করেন তবে এফিলিয়েট মার্কেটি আপনার জন্য সঠিক সমাধান। আপনি নিজের বাড়িতে থেকে আরাম করে কাজ করার সময় বিক্রেতারা যে পণ্যগুলি তৈরি করেন সেগুলি থেকে আপনি প্রচারণা চালাতে এবং উপার্জন পেতে সক্ষম হবেন। এটি এমন একটি কাজ যা আপনি নিজের ঘরে থেকে বের না হয়েই করতে পারেন।

কোন রকম খরচ নায়:-

বেশিরভাগ ব্যবসায়গুলিতে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলির অর্থের জন্য স্টার্টআপ ফি পাশাপাশি নগদ প্রবাহের প্রয়োজন হয়। তবে, এফিলিয়েট মার্কেটি কম খরচে করা যেতে পারে, এর অর্থ আপনি দ্রুত এবং খুব ঝামেলা ছাড়াই শুরু করতে পারেন। তবে চিন্তার জন্য কোনও কারন নাই আপনি এফিলিয়েট মার্কেটি  প্রোগ্রামে ফ্রিতে কাজ করে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। কাজের এই লাইনটি শুরু করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

গ্রাহক সমর্থন বাড়াতে হবে:-

ব্যক্তিগত বিক্রেতারা এবং পণ্য বা পরিষেবাদি সরবরাহকারী সংস্থাগুলি তাদের গ্রাহকদের সাথে ডিল করতে হবে এবং তারা যা কিনেছে তাতে সন্তুষ্ট কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। এফিলিয়েট মার্কেটি  কাঠামোকে আরো সুন্দর করে তুলতে হবে,

আপনাকে গ্রাহক সমর্থন বা গ্রাহক সন্তুষ্টি নিয়ে কখনই উদ্বিগ্ন হতে হবে না। এফিলিয়েট মার্কেটি এর পুরো কাজটি হ’ল বিক্রয়কারীকে ভোক্তার সাথে সংযুক্ত করা। বিক্রয় থেকে আপনার কমিশন পাওয়ার পরে বিক্রেতার কোনও গ্রাহকের অভিযোগের সাথে ডিল করে।

সুবিধাজনক এবং নমনীয় কাজ এফিলিয়েট মার্কেটিং:-

যেহেতু আপনি মূলত একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠছেন, তাই আপনার নিজের লক্ষ্য নির্ধারণে, আপনার পথকে পুনর্নির্দেশের ক্ষেত্রে আপনি নিজেরাই আগ্রহী পণ্যগুলি বেছে নিতে এবং এমনকি নিজের ঘন্টা নির্ধারণে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জন করেন।

এই সুবিধার অর্থ আপনি যদি সহজ এবং সরল প্রচারগুলিতে সম্পূর্ণ পছন্দ করেন বা মনোযোগ দেন তবে আপনি আপনার পোর্টফোলিওটিকে বৈচিত্র্যময় করতে পারবেন। আপনি কোম্পানির সীমাবদ্ধতা এবং বিধিমালা পাশাপাশি দুর্ব্যবহারকারী দলগুলি থেকেও মুক্ত থাকবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাফল্যে অজর্নের গুরুত্বর্পূণ দিক নির্দেশনা।

অনলাইনে নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্মই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে সহজে আয় করতে চান তাহলে আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি। এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইডে প্রথম নির্দেশনাই হচ্ছে সাইন আপ করে বিক্রির জন্য নিজস্ব জায়গা উপযোগী পণ্য নির্ধারণ করে নেয়া।

বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেটিং নেটওয়ার্ক থেকে সেরা ১০টি অ্যফিলিয়েট প্রোগ্রাম দেখে পছন্দ মতো দু’একটি নির্বাচন করে নিতে পারেন। নির্দিষ্ট এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড নিয়ে যে পণ্যটির অ্যাডভারটাইজিং করতে চান সেটার লিংকে আপনি একটি স্বতন্ত্র এফিলিয়েট আইডি পাবেন।

যখন কেউ আপনার দেয়া লিংকে ক্লিক করবে এবং পণ্যটি কিনবে তখন বিক্রিত পণ্যের দামের ওপর আপনি একটা কমিশন পাবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড এ নতুনদের জন্য প্রথম পরামর্শ হচ্ছে সঠিক পণ্যের জন্য সঠিক ক্রেতা টার্গেট করা। যদি সঠিক ক্রেতার কাছে সঠিক পণ্য পৌঁছে দেয়া যায় তবেই সে পণ্য ক্রয়ের ওপর থেকে নির্দিষ্ট কমিশন পাওয়াটা সহজ হয়ে যায়।

১.সংকল্প দৃঢ় করতে হবে:

আপনি যদি শুধু শোনা কথায় একবার চেষ্টা করে দেখতে চান তাহলে আমি মনে করি এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য নয়। এটা এমন কিছু নয় যেখান থেকে আপনি রাতারাতি মিলিওনিয়ার হয়ে যাবেন। এখানে দক্ষতার প্রয়োজন।

আপনি যদি সত্যিই দক্ষতার সাথে এটাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান সেক্ষেত্রে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হোন। এখানে শিখতে সময় এবং শিক্ষকের প্রয়োজন। আপনাকে সংকল্প দৃঢ় করতে যে আপনি কাজ করে আয় করতে পারবেন।

২.ওয়েবসাইট তৈরি করা বনাম না করা

যদি আপনার মনে হয় যে একটা ওয়েবসাইট তৈরি না করেই আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন তাহলে আপনি ভুল। ওয়েবসাইট ছাড়াও আপনি আয় করতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনি করছেনটা কী?

ধরুন, ফেসবুকে আপনি একটা পেজ তৈরি করে সেখান থেকে প্রচুর আয় করছেন। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যদি আপনার পেজটা রিমোভ করে দেয় তখন আপনার কী করার আছে!সেজন্যই আপনার নিজের একটা ওয়েবসাইট এবং সেখানে নিজস্ব কাস্টমার থাকা জরুরি।

৩.ভবিষ্যতের লক্ষ্য স্থির করতে হবে:

প্রত্যেকেই তাৎক্ষণিক আয় করতে চায়। সেক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে সেটার ওপর কমিশন নেয়া যায়। কিন্তু সবসময় এটা মাথায় রাখা উচিত যে কীভাবে ক্রেতাকে নিজের ব্যবসার দিকে ফেরানো যায়। ক্রেতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট খোলাই আপনার প্রথম কাজ। এখান থেকেই হোক শুরু, এরপর যাবেন পরবর্তী বড় বড় স্টেপগুলোতে।

৪.আপনি যে সর্ম্পকে ভাল জানেন তার পেছনে লেগে থাকুন:

অনেকেই যে ওয়েবসাইটটা তৈরি করে সেটা নিয়ে তাদের যথেষ্ট ধারণা থাকে না। আপনি যা করছেন সেটার প্রতি যদি আপনার ইচ্ছে না থাকে, সেটার জন্য যদি আপনি রোজ ভোরে বিছানা ছেড়ে উঠতে না পারেন তবে নিশ্চিত থাকুন সে কাজটি আপনি বেশিদিন করতে পারবেন না।

এমনকি যখন আপনি ওয়েবসাইটি দাঁড় করাচ্ছেন তখন এর প্রত্যেকটা কনটেন্টে আপনার আগ্রহ থাকা জরুরি। আপনার ওয়েব সাইটের বিষয় নির্ধারণ অবশ্যই যথাযথ রিসার্চ এবং অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত।

৫.নির্দিষ্ট একটি জায়গা নির্ধারণ করুন:

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা টা কৌশলের একটা অংশ। আপনি যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন সেটা যদি জায়গা উপযোগী না হয় তবে লাভের কোন সম্ভাবনা নেই। এর জন্য

নিচের প্রশ্নগুলো মাথায় রাখতে পারেন :-

*এখানকার লোকজন কি এই জায়গার সাথে সম্পর্কিত কোন কনটেন্ট খোঁজ করছে?

*এখানে কি এমন কোন সমস্যা আছে যেটা আপনি সমাধান করতে পারেন?

* গুগলে সার্চ করার সময় তাদের রেজাল্ট পেজে কি অন্যান্য ব্যবসার অ্যাডভারটাইজিং থাকে? এখান থেকে কি টাকা আয় করা যাবে?

*এই বিষয়টা কি আপনার ক্ষমতার বাইরে বা এখানে সেরা হবার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আপনার আছে কি না?

প্রতিযোগী সাইটগুলো কি অপ্রতিরোধ্য? এখানে আপনি জায়গা করে নিতে পারবেন তো?

৬. ভাল মাপের হোস্টিং কিনতে হবে:

ফ্রি ওয়েব হোস্টিং অথবা ব্লগিংয়ে আপনি আপনার ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করতে পারেন। তবে এটা খুব একটা সুবিধার নয়। আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়ে যথেষ্ট দৃঢ় সংকল্পমনা হোন এবং সত্যিই এখান থেকে আয় করতে চান তবে ইন্টারনেটে নিজের জায়গা কিনে নেয়া দরকার। এক্ষেত্রে পাশের বাসার কোন প্রযুক্তিবিদের তৈরি সার্ভার ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনি এর ভালো ওয়েব হোস্টিং কেনার জন্য Namecheap, Bluehost, Domain.com, থেকে নিতে পারেন।

৭. এবার একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে:

৫টি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস বিজনেস থিম দেখে নিতে পারেন আপনার সুবিধার্থে। এখান থেকে আপনার পছন্দ মত একটি থিম নিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনার এফিলিয়েট বিজনেস শুরু করতে পারেন। এফিলিয়েট ব্যবসার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটই বেস্ট। এবং ভালো থিমের জন্য আপনি Theme Forest থেকে নিতে পারেন। এখানে আপনি ভালো মাপের Theme & Plugin পাবেন।

নতুনদেরজন্যএফিলিয়েটমার্কেটিং – কীবিক্রিকরবেন?

পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:-

* যে পণ্যটি বিক্রি করতে যাচ্ছেন সেটা আপনি নিজে কিনবেন তো ?

*আপনার কনটেন্টের সাথে সরাসরি ম্যাচ হয় এমন পণ্য বিক্রি করুন।

* পণ্য বিক্রির সময় নিজের খ্যাতির বিষয়টা মাথায় রাখবেন। যা বিক্রি করছেন তা পেয়ে ক্রেতা সন্তুষ্ট হবে তো?

৯।এফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্য কোথায় খুঁজে পাবেন:

এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক: এগুলো হচ্ছে এমন ওয়েবসাইট যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যাবসায়ীর এফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে শত শত ব্যাবসায়ীরা এফিলিয়েটদের সাইন আপ করানোর জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এই লিস্টে ১০টি সেরা এফিলিয়েট প্রোগ্রাম বা নেটওয়ার্ক রয়েছে যেখান থেকে আপনি এক বা একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের পন্য বিক্রি করতে পারেন।

সরাসরি ব্যাবসায়ীরর সাইটে যান: কিছু কিছু ব্যাবসায়ী অ্যাফলিয়েট নেটওয়ার্কের আওতায় না গিয়ে নিজেই বিক্রি এবং পেমেন্ট পরিচালনা করে থাকে। আপনি চাইলে সরাসরি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের কমিশন নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো। কারণ অনেক ব্যবসায়ীই ঠিকমতো কমিশন দেয় না। তাই পরিচিত ব্যবসায়ীর কাছে যাওয়াই ভালো।

১০।এফিলিয়েট লিংক এবং ব্যানার কোথায় বসাবেন:

ওয়েবসাইটের সাইডবারে দেখার জন্য ব্যানার রাখা উচিত। টাকা আয় হয় মূলত কনটেন্ট থেকে। আপনার কনটেন্টেই ব্যানারটি অ্যাড করে দিবেন। কেউ আপনার কনটেন্ট পড়তে শুরু করার মানে সে ক্রয়ের জন্য আগ্রহী। সেজন্যই ব্যানারকে কনটেন্টের সাথে রাখা জরুরি।

১১।প্রয়োজনীয় কনটেন্ট ছাড়া কিছুই দিবেন না:

এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড এ কনটেন্টের বিষয়ে জোর দিয়ে বলার কারণ হচ্ছে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণেরক্ষেত্রে এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কনটেন্ট যদি ভালো না হয় তাহলে কিছুতেই ভিজিটর থাকবে না।বিক্রির প্রথম ও অন্যতম উপাদান হচ্ছে একটা অসাধারণ কনটেন্ট তৈরি করা।

১২.ভালমানের পেজ তৈরি করতে হবে:

আপনার পেজ, রিভিউ, টিউটোরিয়ালস ইত্যাদিতে টার্গেট ট্রাফিক অ্যাড করুন। আপনার কনটেন্ট এবং অ্যাফলিয়েট লিংক কাজ করছে কি না সেটা জানার জন্য হলেও কিছু ভিজিটর দরকার।আপনার অফারে টার্গেট ট্রাফিক পাওয়ার টিপস সমূহ :-

*আপনার কাস্টমার আছে এমন অন্য কারো ওয়েবসাইটে গেস্ট পোস্ট করুন।

*সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার কনটেন্ট শেয়ার করুন।

*একটা ফ্রি ডাউনলোড লিংক তৈরি করুন ।

*নতুন কনটেন্টের বিষয়ে জানিয়ে আপনার সাবসক্রইবারদের মেইল করুন।

১৩.পেজ পুনরাবৃত্তি করতে হবে:

এখন আপনার একটা পেজ আছে এবং আপনি সেটা নিয়ে কাজ করছেন। এবার আপনার কাজ হলো পেজে নতুন নতুন কনটেন্ট পোস্ট করা। পেজ কিছুতেই ছেড়ে যাওয়া যাবে না। সবমসয় এটার সাথে লেগে থাকতে হবে।

১৪.প্রত্যেক ভিজিটরকে কাউন্ট করতে হবে:

প্রত্যেক ভিজিটরকেই আপনার কাস্টমার হিসেবে ট্রিট করুন। তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করুন। ভবিষ্যতে তারা আবার আপনার ওয়েবসাইট ভিজিটিংয়ে আসবে এবং পণ্য কিনবে এমন সম্পর্ক স্থাপন করুন। কোন কাস্টমারই যেন খালি হাতে না যায় এ বিষয়টা নিশ্চিত করুন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড থেকে আপনি জানলেন একজন নতুন এফিলিয়েটর হিসেবে আপনার কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়। কীভাবে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন এবং কোনটার পর কোন টাতে হাত দিবেন এসবই এখন আপনার জানা। সুতরাং, এই এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড কাজে লাগিয়ে নিজের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে চাইলেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

নির্বাহী সারসংক্ষেপ:-

পারফরম্যান্স-ভিত্তিক রাজস্ব বিকল্পগুলিতে ফোকাস করে তাদের নিজস্ব আয়ের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে চাইছেন তাদের জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি আদর্শ সমাধান। বিক্রেতার সাথে মিল রেখে কাজ করা, অনুপ্রাণিত অনুমোদিত বিপণনকারী তাদের নিজস্ব পণ্য বা পরিষেবা উৎপাদন করার চিন্তা না করে তাদের বাড়ির আরাম থেকে প্যাসিভ ইনকাম অর্জন করতে সক্ষম হবে।

যদিও কাজের সাফল্য এফিলিয়েট মার্কেটিং দক্ষতার উপর নির্ভর করে, এটি প্রাথমিক আয় জীবন বা লাভজনক দ্বিতীয় কাজ হিসাবে আপনার আয়ের লক্ষ্যগুলি অর্জনের কার্যকর উপায় হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে।

পর্যালোচনা, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবিনার সফটওয়্যার এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে একটি মার্জিত সোজা প্রক্রিয়া, এফিলিয়েট মার্কেটিং ক্ষেত্রে একটি নতুন সীমানা যা কেবলমাত্র ব্যবহৃত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই নিবন্ধে অন্তর্ভুক্ত টিপসগুলি অনুসরণ করুন এবং আপনি আপনার শ্রোতাদের জড়িত করতে পারবেন, প্যাসিভ পাঠকদের সক্রিয় গ্রাহকদের রূপান্তর করতে পারবেন ।

আপনি যদি অনলাইনে অর্থোপার্জন এবং একটি সফল অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হন তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্ভবত আপনার সেরা বেটগুলির মধ্যে একটি। কেউই কেবল অনুমোদিত মার্কেটারে পরিণত হতে পারে তা নয়, এর স্কেলিবিলিটি হওয়ার বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে; উল্লেখ করার দরকার নেই, আপনি আক্ষরিকভাবে বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে কাজ করতে পারেন।

আপনি যা কিছু করেন না কেন আপনার দরকার হয় যে তিনটি জিনিস তা হলো র্ধৈয্য, সাহস ও মনোবল। আপনার সাফল্য এ তিনটির মধ্যে নিহিত আছে। আর এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে আপনার যেমন র্ধৈয্য দরকার তেমন সাহস ও মনোবল দরকার। কারন আপনি চাইলে আজ কাজ শুরু করে কাল থেকে টাকা পাবেন না। কাজ করে র্ধৈয্য ধরে অপেক্ষা করলেই আপনি ফল পাবেন। আর একবার যখন পেতে শুরু করবেন তা কখনো শেষ হবে। তাই আমার দৃষ্টিতে এফিলিয়েট মার্কেটিং বেষ্ট অনলাইনে আয় করা মাধ্যম।

আরো পড়ুন:- একজন গৃহিনী ঘরে থেকে কিভাবে অনলাইন হতে আয় করতে পারেন?
 

লেখা গুলো পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদেরকে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আপনার সুচিন্তিত মতামত আমার একান্ত কাম্য। তাই এই বিষয়ে আপনার যদি কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি আনন্দের সহিত আপনার মতামত গুলো পর্যালোচনা করে রেপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভাল থাকবেন।

(ভিতরে দেওয়া লিংকগুলো আমার দৃষ্টিতে বেষ্ট সাইট। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ফলাফল আপনি নিজ হাতে পাবেন)

1 thought on “এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন? (পর্যালোচনা-২০২১)”

Leave a Comment