ইউটিউব থেকে আয়: একজন ইউটিউবার হতে হলে মেনে চলুন এ ধাপ সমূহ!

এখন প্রায় অনেক মানুষ ইউটিউবে কাজ করে অনেক অনেক টাকা আয় করছে।এর কারনে এখন

অনেকে ইউটিউব সর্ম্পকে ভালভাবে জানতে চায় এবং এখান থেকে আয় করতে চায়।

আরো জানুন: ইউটিউব এর কাজ ও এর মাধ্যমে কি কি করা যায় ?

এ কারনে নতুনদের জন্য আমার এ কন্টেন্ট লেখা, আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে। তাহলে জানুন কিভাবে আপনি অনলাইনে একজন সেরা ইউটিউবার হতে পারবেন।নেব। তো দেরি না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

১। প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকা দরকার:

যদি একজন ইউটিউবার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে আপনি একজন ইউটিউবার হতে পারবেন।তা না হলে সম্ভব না।

আপনি যাই করতে চান না কেন তার পিছনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আপনার ইচ্ছা। তো ইউটিউবার হতে গেলে আপনার প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে। তবেই আপনি সফল হতে পারবেন।

২। ভিডিও তৈরি করার প্রতি ভাললাগা:

ভিডিও তৈরি করা একটি সৃজনশীল কাজ আর এ সৃজনশীল কাজটা কিন্তু সবার কাছে ভালো লাগে না।

তো আপনার কাছে ভিডিও মেকিং কেমন লাগে এটি আগে জেনে নেওয়া দরকার। একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন তো যে ভিডিও বানাতে আপনার কাছে কি ভালো লাগে নাকি অনেকটাই ঝামেলার মনে হয়।

পড়ুন: ইউটিউবে মনিটাইজ পেতে কেমন ভিডিও বানাতে হবে?

স্বাভাবিকভাবে আপনার ফোনের ক্যামেরার দিকে লক্ষ্য করেই এই প্রশ্নটি করুন। যদি আপনি একটি সহজ উত্তর পেয়ে যান তাহলে ইউটিউবার হতে আর ঠেকায় কে! এগোতে থাকুন পরবর্তী ধাপসমূহ অনুসরণ করে।

৩। ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নিশ সিলেক্ট :

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চান এজন্য প্রথমে আপনার যে জিনিসটি দরকার হবে তা হলো জন্য একটি ভালো নিশ সিলেক্ট করতে হবে। 

নিশ হল আপনি ইউটিউবে যে বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন। অনেকেই ইউটিউব এ ফেইল করে তার কারণ হলো তারা আজ একটি বিষয়ের উপর ভিডিও দেয় কাল আর একটি বিষয়ের উপর ভিডিও দেয়। এতে করে যেমন তাদের কাজের কোন ধারাবাহিকতা থাকে না একইভাবে তাদের অডিয়েন্সরাও বিরক্ত হয়ে যান।

আরো জানুন: ইউটিউবে কিভাবে অ্যাডসেন্স যুক্ত করবেন ?

তাই আপনি যে বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন সে বিষয়কে নিশ হিসাবে সিলেক্ট করবেন। 

৪। ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে:

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নিশ সিলেকশন হয়ে গেলে এখন আপনাকে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। নিশ বাছাইয়ের পর আপনার ইউটিউব চ্যানেলের একটি সুন্দর নাম সিলেক্ট করাও সহজ হয়ে যাবে।

আরো জানুন : কিভাবে আপনি ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন?
৫। ইউটিউব  চ্যানেলটিকে ভালো করে সেটিং করতে হবে:

একটি চ্যানেল খুলেই ভাববেন না যে আপনার কাজ শেষ হয়ে গেছে, বরং এখন থেকেই কাজ শুরু সবসময়ের জন্য।

এখন আপনাকে চ্যানেলটিকে সঠিকভাবে সেটআপ করে নিতে হবে আর এ ক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করে থাকেন ফলে পরবর্তীতে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই ঠিকঠাকভাবে ইউটিউব চ্যানেল সেটআপ করবেন। 

৬। সুন্দর ভিডিওর আইডিয়া বের করা:

ইউটিউব এ ভিডিও বানানো একটি সৃজনশীল কাজ, তাই আপনাকে প্রতিনিয়ত ক্রিয়েটিভিটির পরিচয় দিতে হবে।

আপনি যদি ভেবে থাকেন যে অন্যান্য আর দশজনের ভিডিও ফলো করে আপনিও সেরকম ভিডিও বানিয়ে ফেলবেন তাহলে ভুল করছেন কারণ এখানে ইউনিকনেস একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার ভিডিওর মধ্যে যদি আপনার আলাদা সত্ত্বার প্রকাশ না ঘটে তবে কিন্তু আপনার অডিয়েন্স আপনাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করবে না!

আরো জানুন: কিভাবে আয় করবেন YouTube থেকে ।

দেখবেন যে আপনাকে তারা একজন কপিক্যাট হিসেবে অভিহিত করছে এবং আপনাকে রিজেক্ট করছে। তাই সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানানোর আইডিয়া বের করতে হবে।

৭। প্রয়োজনীয় কিছু টুলস ম্যানেজ করতে হবে:

এবার এ ধাপে আপনার ইউটিউবিং এর জন্য কিছু টুলস ম্যানেজ করতে হবে। ইউটিউব এর জন্য যে ভিডিও তৈরি করবেন তার জন্য কিছু টুলস এর প্রয়োজন আর সকল টুলসগুলো যে আপনাকে কিনে নিতে হবে তা নয় কারণ হয়তো বা ইতোমধ্যে আপনার কাছে অনেক টুলসই আছে ।

আবার অনেক টুলস ফ্রী পাওয়া যায় তাই আমি এখানে এই টুলসগুলো ম্যানেজ করার কথা বলছি।

৮। একটি সুন্দর রুটিন তৈরী করা

কোন কাজে সফলতা পাবার জন্য জরুরী নিয়ম মাফিক কাজ করা আর এর জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর রুটিন। সুন্দর রুটিন বলতে বোঝানো হচ্ছে যে রুটিনটি আপনি খুব সুন্দর ভাবে ফলো করতে পারবেন।

তাই নিজের দক্ষতার সাথে মেলে এমন একটি রুটিন তৈরি করে ধারা বাহিক ভাবে কাজ করুন। দেখবেন এক সময় আপনার সব কাজ ভালো ভাবে হতে শুরু করবে আর সাফল্য হবেই।

৯। নিয়মিত ভিডিও তৈরি করতে হবে:

আমি যে একটি রুটিন বানানোর কথা বললাম এটি এজন্য বললাম যে আপনি যাতে করে রুটিনটি ফলো করে নিয়মিতভাবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও বানাতে থাকেন।

আরো জানুন: ৩টি কারণে অবশ্যই ভিডিও এডিটিং শেখা দরকার।

কারন সফল হতে হলে আপনাকে নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে যেতে হবে। অনেকেই ইউটিউব এর সফলতার রহস্য জানতে চান, কিন্তু ইউটিউবে সফল হতে গেলে মূল রহস্য হলো নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে তা পাবলিশ করা।

১০। সঠিকভাবে ভিডিও আপলোড করা শিখতে হবে।

শুধু নিয়মিত ভিডিও বানালে চলবে না। ওই ভিডিওগুলো সঠিকভাবে আপনাকে আপনার চ্যানেলে পাবলিশ করতে হবে আর তাহলেই আপনি ভালো রেজাল্ট পাবেন।

তাই আপনার প্রথমেই শিখে নেওয়া উচিত যে কিভাবে ইউটিউব এ সঠিক উপায়ে ভিডিও পাবলিশ করতে হয়।

১১। ভিডিও নিয়মিতভাবে প্রমোট করতে হবে:

ভালো একজন ইউটিউবার হতে গেলে আপনাকে শুধু ভিডিও পাবলিশ করে বসে থাকলে হবে না। সাথে সাথে আপনাকে তা প্রমোট করতে হবে। এটি এজন্য করতে হবে যাতে করে বেশি বেশি মানুষ আপনার ভিডিও সম্পর্কে জানতে পারে।

প্রথমে আপনাকে বেশি বেশি প্রমোট করতে হবে। এর পরে দেখবেন যে অটোমেটিকলি অনেকেই যখন আপনার ভিডিও সম্পর্কে জানছে তখন আপনার আর অত বেশি কষ্ট করতে হবে না।

১২। কাজ চালিয়ে যেতে হবে:

আর এভাবে আপনাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। কাজ করতে থাকুন তবেই দেখবেন যে একে একে সফলতা আপনার হাতে এসে ধরা দিচ্ছে। কোন অবস্থাতে র্ধৈয্যহারা হলে চলবে না এগিয়ে যেতে হবে।

১৩। ইউটিউব লাইফস্টাইলে পদার্পন করতে হবে: 

ইউটিউব লাইফস্টাইল বলতে বোঝানো হচ্ছে যে এমন একটি লাইফস্টাইল যেখানে আপনার কোন বস থাকছে না। আপনি হচ্ছেন আপনার নিজের বস। আপনিই আপনার নিজের সময় নির্ধারণ করছেন।

আপনাকে বকাঝকা করার কেউ নেই। আপনার এখানে সময়ের স্বাধীনতা থাকছে, অর্থের স্বাধীনতা থাকছে আর ফলে আপনি ভ্রমণের স্বাধীনতা পেয়ে যাচ্ছেন। তো অনলাইন লাইফস্টাইল এর এটি একটি সুবিধা যে এটি অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়।

আরো জানুন: ইউটিউব ভিডিও কিভাবে র‌্যাঙ্ক করবেন ?

আজ এ পর্যন্তই। আশা করি কন্টেন্টটি ভাল লেগেছে! এবং বুঝতে পেরেছেন কিভা্বে আপনি একজন ইউটিউবার হতে পারবেন। তাহলে বন্ধুরা শুরু করে দিন আজ থেকে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্টে জানান।

ভাল থাকবেন।।

অনলাইন আয়ের জন্য ভিজিট করুন: Shorte.st সাইটে

Leave a Comment