অনলাইন আয়: বেকার থেকে মুক্তি পেতে নির্ভরযোগ্য ৩০ টি উপায় দেখে নিন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করুন আজই।

অনলাইন আয়: বেকার থেকে মুক্তি পেতে নির্ভরযোগ্য ৩০ টি উপায় দেখে নিন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করুন আজই।

আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চয় ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর

মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অনলাইনে আয় সে তো মরীচিকা, হয়তো

অনেকবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি। আপনি যদি পরের অধীনে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে আয়

উপার্জন করতে চান তাহলে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য এই লেখাটি হতে পারে

সঠিক দিক নির্দেশনা।

এই লেখায় অনলাইনে আয় করার ৩০টি উপায় থেকে জেনে নিন সব থেকে সহজে বেশি ইনকাম

করার উপায় কি। আর এর থেকে আপনার পছন্দের এবং দক্ষতার যে কোন একাধিক উপায় দিয়ে শুরু

করুন আর আপনার online ইনকাম কে বাড়িয়ে ফেলুন যত খুশি ততো। বিস্তারিত পড়ে আপনিই ঠিক

করবেন কোন কাজ করে অনলাইন থেকে মাসে কত টাকা আয় করবেন?

১. এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়:

অনলাইনে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে যদি আপনি খুব সিরিয়াস হয়ে থাকেন এবং যদি পরিশ্রমী আর

র্ধৈয্যশীল মানুষ হন তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন।অন্য যে

কোন সময়ের তুলনায় মানুষ এখন বেশি অনলাইন শপিং করছে। আর এই অনলাইন শপিংয়ের ঊর্ধ্বমুখী

বিকাশের কারণেই আগের তুলনায় এফিলিয়েট মার্কেটিং করে উপার্জন করার সুযোগ বেড়েছে। আমাজন

,ইবে, ক্লিক ব্যাঙ্ক, সিজে, আলিবাবা ইত্যাদি শত শত অনলাইন মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে আপনি

অনলাইনে তাদের পন্যের প্রচার করতে পারেন। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য আপনি একটি ওয়েবসাইট

তৈরি করে সঠিক পণ্য কেনার জন্য গ্রাহকদের সহায়তা করতে পারেন। পরিবর্তে উক্ত পণ্যের বিক্রয়ের

উপর পন্য এবং মার্কেট প্লেস ভেদে আপনি ৪% থেকে ২০% পর্যন্ত কমিশন উপার্জন করতে পারেন।

ওয়ার্ডে এখন এমনও এফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যারা প্রতি মাসে হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ ডলার

ইনকাম করছেন।

২. অ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে আয়:

যদিও এই তালিকায় আমার সবচেয়ে প্রিয় উপায় ।সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট ওনার তাদের

সাইট দিয়ে মাসে হাজার থেকে লক্ষ ডলার ইনকাম করছে। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতে

আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে (অবশ্য চাইলেই যে কেউ এখন নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে

পারে) এবং কিছু ট্রিকস অবলম্বন করে ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বা ভিজিটর আনতে হবে তাহলে

আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অনলাইনে প্যাসিভ ইনকামের এটাই সবথেকে দীর্ঘস্থায়ী উপায়। আপনার যদি ভাল কন্টেন্ট সমৃদ্ধ একটি

ব্লগ সাইট বা ওয়েবসাইট থাকে তবে আপনার অনলাইন ইনকাম চলতেই থাকবে। কিছুদিন আগেও বাংলা

ওয়েবসাইট বা ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদন ছিল না। কিন্তু গত বছর থেকে গুগল তাদের অ্যাডসেন্সে

বাংলা ভাষা তালিকা ভুক্ত করার যে কেউ তার বাংলা ওয়েবসাইট বা ব্লগ দিয়েই টাকা ইনকাম করতে

পারে। এছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যেমন মিডিয়া.নেট, বিডভারটাইজার,

ইনফোলিংকস, অ্যাডভার্সাল মাধ্যমে আপনার সাইটে অ্যাড দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

৩. ফ্রিল্যান্সার হয়ে আয় করতে পারেন:

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনি অস্থায়ী ভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিভিন্ন ছোট/বড় সংস্থাগুলির

সাথে কাজ করতে পারেন এবং তাদেরকে সেবা প্রদান করতে পারেন।

আপনি যে কাজে দক্ষ তার উপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে মাসে $৫০০ থেকে $২০০০+ পর্যন্ত আয়

করত পারেন। কন্টেন্ট লেখা, ওয়েব ডিজাইনার, গ্রাফিক ডিজাইন বা এসইও, ডেটা এন্ট্রি,

এপস ডেভেলপমেন্ট এবং আরো অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার জন্য আপনি  ইল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, ওয়ার্ক এন্ড হায়ার,

আপ ওয়ার্ক, পিপল পার আওয়া এই ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর যেকোন এক বা একাধিক সাইটে

সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন।

৪. ইউটিউবের মাধ্যমে আয়:

বর্তমান সময়ে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় একটা ক্রেজি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আপনি যে বিষয়ে

পারদর্শী বা যা করতে ভালোবাসেন এমন যে কোন বিষয় নিয়ে ভিডিও ধারন করা শুরু করতে পারেন

এবং তা আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন। আপনার ইউটিউব চ্যানেল যে কোন

বিষয় নিয়ে হতে পারে যেমন, কোন শিক্ষণীয় বিষয়, ভ্রমন, এন্টারটেইনমেন্ট সহ যে কোন কিছুই।

প্রফেশনাল ক্যামেরা লাইট, ক্রু, অভিনেতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে হবে এমন কোন কথা নাই। এমন

অনেক সফল ইউটিউবার আছে যারা শুধু তাহের হাতের স্মার্ট ফোন দিয়েই ভিডিও করে ইউটিউবে

প্রকাশ করে সফল হয়েছে। অবশ্য এখন ইউটিউবের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আপনার চ্যানেলে যদি

১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকে আর আপনার ভিডিওগুলোর মোট ৪০ হাজার ঘন্টা দেখা হয় তাহলে আপনি

ইউটিউবে মানিটাইজেসন করে ইউটিউব থেকে ইনকাম শুরু করতে পারেন।

৫. পিটিসি সাইট থেকে আয় :

আপনি যদি অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা করে থাকেন এবং খুব সহজ এবং ঝামেলা ছাড়া কিছু

টাকা ইনকাম করতে চান এই যেমন ১০০ ডলার বা তার কম তাহলে আপনার জন্য পিটিসি সাইটগুলো

হতে পারে সর্বোত্তম উপায়।

পিটিসি (PTC) মানে হল (Paid To Click) পেইড টু ক্লিক। মানে আপনি এই সাইটগুলো তে যতগুলো

অ্যাডে ক্লিক করবেন তার বিপরীতে আপনি নির্দিষ্ট ডলার পাবেন। পিটিসি সাইটে আপনাকে বিজ্ঞাপনের

লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে এবং ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। আপনার দেখা প্রতিটি

বিজ্ঞাপনের জন্য পিটিসি সাইট আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।

৬. ক্যাপচা সলভ করে আয় করুন:

আপনার যদি হাতে আরও বেশি সময় থাকে ,তবে আপনি ক্যাপচা সলভার(captcha solver)

হিসাবে অনলাইনে আরও বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর ক্যাপচা সলভার অনলাইন অর্থ উপার্জন

সবচেয়ে সহজ উপায় গুলোর অন্যতম একটি কাজ। একজন ক্যাপচা solver হিসাবে, আপনাকে

ক্যাপচার ইমেজ পড়ে বুঝতে হবে এবং সঠিক অক্ষর বা চিহ্ন লিখতে হবে। ভাল আয়ের জন্য আপনাকে

খুব দ্রুতই টাইপ করতে জানতে হবে। আপনি প্রতি ১০০০ ক্যাপচা সমাধান করে $ ২ পর্যন্ত ইনকাম

করতে পারবেন।

আপনি যদি ক্যাপচা সমাধান করতে আগ্রহী হন তবে Kolotibablo, MegaTypers,

CaptchaTypers, ProTypers, Captcha2Cash, 2Captcha, Qlinkgroup,

VirtualBee, FastTypers, PixProfit, এই  ক্যাপচা সাইট গুলোতে সাইনআপ করে কাজ শুরু

করতে পারেন।

৭. জিপিটি (GPT) সাইট থেকে আয় :

অনলাইনে আয় করতে যোগ দিতে পারেন জিপিটি সাইটে। জিপিটি সাইটে আপনি ছোট ছোট সার্ভে

করে, ভিডিও দেখে, গেম খেলে এবং এই ধরনের আরও অনেক কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

আর পেপ্যাল, পাইজা, চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আপনার পেমেন্ট উঠাতে পারবেন। 

৮. জরিপ বা সার্ভে থেকে আয়:

কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নিয়ে সার্ভে বা জরিপ করে অর্থ

উপার্জন করতে পারেন। অনলাইন সার্ভে করে আপনি উপরের যে কোন উপায় থেকে আরও বেশি আয়

করতে পারবেন। সার্ভে করার জন্য আপনাকে উক্ত পন্য বা সেবা সম্পর্কে মতামত দিতে হবে। সার্ভে বা

জরিপের ক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র প্রশ্ন থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী উত্তর নির্বাচন করতে হবে,

অতিরিক্ত কিছুই লিখতে হবে না। জরিপের দৈর্ঘ্য, আপনার প্রোফাইল এবং আপনি যে দেশে বসবাস

করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি প্রতিটি সার্ভের জন্য $ ১ থেকে $ ২০ ইনকাম করতে পারবেন।

৯. ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে আয়:

একজন ভার্চুয়াল সহকারী একজন ব্যক্তিগত সহকারীর মতোই, পার্থক্য শুধু যিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত

না থেকেও অনলাইনে সহকারী হিসাবে কাজ করেন। ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে আপনাকে যে কাজগুলো

করতে হবে তার ভিতর অন্যতম হল ওয়েবসাইট মনিটরিং করা, পরামর্শদান, কন্টেন্ট লেখা, প্রুফরিডিং,

পাবলিশিং, মার্কেটিং, কোডিং, ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব রিসার্চ, স্যোসাল মিডিয়া

মার্কেটিং সহ আরও অনেক ধরনের কাজ। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করার জন্য অনলাইনে

অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন HireMyMom, MyTasker, Zirtual, uAssistMe,

123Employee । এগুলোতে সাইন আপ করে আপনি আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার শুরু করে দিতে

পারেন।

১০. কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি করে আয়:

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য

কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন। বিভিন্ন

ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তবে সাধারনত

কন্টেন্ট রাইটাররা ৫০০ শব্দের কন্টেন্ট এর জন্য ৫ ডলার বা তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন।

আপনি কন্টেন্ট লেখার কাজ পেতে Elance, iWriter, WriterBay, FreelanceWriting,

TextBroker, ExpressWriters.com, FreelanceWritingGigs.com মত সাইটে

যেতে পারেন।

১১. এসইও করে আয়:

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও(SEO) হল অনলাইনে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি কাজ। আপনি যদি

এসইও কাজ পারেন তবে আপনাকে অনলাইনে টাকা উপার্জন করার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।

অনলাইনে হাজার হাজার ওয়েবসাইট এবং কোম্পানি আছে যারা এসইওতে প্রতি মাসে হাজার হাজার

ডলার খরচ করে যাতে তাদের ওয়েবসাইটের কীওয়ার্ড গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনের সার্চে প্রথম দেখায়।

আপনি এসইও কাজ শিখতে চাইলে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এসইও কাজ শেখায় তাদের সাথে

যোগাযোগ করতে পারেন। আর নিজে নিজে শিখতে চাইলে ইউটিউবে এবং গুগলে হাজার হাজার লেখা

আছে সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।

১২. ওয়েব ডিজাইন করে আয়:

আপনি যদি ভাল ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ পারেন তবে যেসব গ্রাহক তাদের নতুন

ওয়েবসাইট তৈরি বা পুরাতন ওয়েবসাইট নতুঙ্করে সাজাতে চায়, তাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে ওয়েব

ডিজাইনের কাজ করে আয় করতে পারেন।

১৩. Fiverr এর মাধ্যমে আয়:

Fiverr এমন একটি ওয়েব প্লাটফর্ম যেখানে আপনি আপনার ডিজিটাল কন্টেন্ট বিক্রি করে ইনকাম

করতে পারেন। Fiverr এর ওয়েবসাইটে যান এবং দেখুন আপনি ঠিক কোন ধরনের কাজ করতে

পারেন। যে কোন একটি গিগস বা ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করুন এবং ফিভার এ দিয়ে মানুষকে জানাতে

পারেন আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে। ফিভার এ যে কোন কন্টেন বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ৫ ডলারে। তাই যদি

আপনি মাত্র ১টি ডিজিটাল কন্টেন্ট বা সেবা ডেভেলপ করেন এবং এটি যদি প্রতিদিন ১বারও বিক্রি হয়

তাহলে মাসে আপনি সর্বনিম্ন ১৫০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

১৪. কমার্স সাইট থেকে আয়:

মানুষ দিন দিন খুব বেশি অনলাইন কেনা কাটার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে ই-কমার্স সাইট

বা অনলাইন মার্কেট প্লেসে জম জমা অবস্থা। আর তাইতো আমাজন আলিবাবার মত প্রতিষ্ঠানের

মালিকরা আজ পৃথিবীর সেরা ধনী। আপনি চাইলে নিজেই অথবা বন্ধু বান্ধব মিলে শুরু করতে পারেন

নিজেদের ই-কমার্স সাইট। তবে ই-কমার্স সাইট করে সফল হতে হলে আপনাকে কিছু ট্রিক্স অবলম্বন করতে

হবে। আপনার আসে পাশের সেই পন্য গুলো নিয়ে কাজ করুন যে গুলো এখনো অনলাইনে সচরচর

পাওয়া যায় না। মানুষের দোরগোড়ায় ভাল মানের পন্য পৌঁছে দিন প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কেটের তুলনায় কিছুটা

কম মূল্যে। সফলতার জন্য এই ২টি টিপস আপনাকে এগিয়ে রাখবে বাজারে।

১৫. মাইক্রোওয়ার্কার হিসাবে আয় :

যদি আপনি অনলাইনে সহজ কাজ খুঁজেন এবং মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার ইনকাম করতে চান তবে

মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করতে পারেন। মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে আপনি বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন

কাজ করতে পারেন যেমন একটি বস্তু সনাক্তকরণ, বিভিন্ন সাইটে রেটিং এবং মন্তব্য করা, ওয়েবসাইট

ভিজিট করা, ভিডিও দেখা,  কন্টাক ডিটেইলস খোঁজা, ছোট ধরনের ওয়েব রিসার্চ করা, ছোট কন্টেন্ট

লেখা ইত্যাদি। অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন mTurk, মাইক্রোওয়ার্কার, SEOClerk,

ClickWorker, GigWalk যেখানে আপনি মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করতে পারেন এবং

অতিরিক্ত আয় উপার্জন করতে পারেন।

১৬. ওয়েবসাইট ফ্লিপিং করে আয়:

ডোমেন ট্রেডিং এর মতই ওয়েবসাইট ফ্লিপিং অনলাইনে ডলার আয় করার জন্য আরও একটি ভাল

ব্যবসা। এখানে আপনি ডোমেইন বিক্রি করবেন না, বিক্রি করবেন ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং এর

জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, তারপর এটি ৩ থেকে ৬ মাস বা তার বেশি সময়

ধরে বড় করুন এবং এই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম শুরু করুন।

২-৩ মাস জন্য ইনকাম করার পরে, আপনি Flippa এবং অন্যান্য ওয়েবসাইট ফ্লিপিং নিলামে সেই

সাইটটি বিক্রির জন্য উঠাতে পারেন। আপনি সহজেই আপনার বানানো এই ওয়েবসাইটটি ১৫ থেকে ২০

গুন বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।

১৭. ফরেক্স এবং স্টক ট্রেডিং করে আয়:

অনলাইন ইনকামের একটি অত্যন্ত লাভজনক উপায় যাদের স্টক ট্রেডিং এবং ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কে

ভাল ধারণা আছে। ইন্টারনেটে স্টক ট্রেডিং এবং ফরেক্স ট্রেডিং এর উপর বিনামূল্যে বা প্রিমিয়াম কোর্স

পাওয়া যায় যেগুলির মাধ্যমে অনলাইনে ট্রেডিংয়ের খুটি নাটি সহ সব জানতে পারবেন। যথেষ্ট জ্ঞান

ছাড়া এই বাজারে প্রবেশ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এটা মাথায় রাখবেন।

১৮. ডোমেইন ট্রেডিং করে আয়:

অনলাইনে ভাল অঙ্কের ইনকাম করার অন্যতম একটা উপায় হল ডোমেন ট্রেডিং বা ডোমেইন ব্যবসা যা

আপনি অনলাইন করতে পারেন। তবে এই ব্যবসায় আপনাকে ডোমেইন কেনার জন্য কিছু বিনিয়োগ

করতে হবে। ডোমেইন ট্রেডিং এর ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে বিস্তারিত জেনে বুঝে

তারপর শুরু করতে হবে। আপনি যদি না বুঝে এই লাইনে ইনভেস্ট করেন তবে আপনার পুরো টাকাটা

লস হয়ে যেতে পারে। তাই আগে ডোমেইন ট্রেডিং কি, ভবিষ্যতে কোন ডোমেইন নাম এর চাহিদা হতে

পারে এগুলো ভালভাবে রিসার্চ করে তারপর এই ব্যবসায় নামুন।

১৯. আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে টাকা আয়:

আচ্ছা সারা দিন তো আমরা আমাদের স্মার্ট ফোন নিয়েই থাকি। তো কেমন হয় যদি সারা দিনের কাজের

মাঝে এই ফোন দিয়েই কিছু টাকা ইনকাম করা গেলে। নিশ্চয় মন্দ হতো না। আপনি আপনার স্মার্ট

ফোনের মাধ্যমে কিছু সহজ কাজ করে ডলার ইনকাম করতে পারেন। স্মার্ট ফোন দিয়ে ইনকাম করার

জন্য এমন অনেক এপ্লিকেশন আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি মাসে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার অনলাইনে

ইনকাম করতে পারবেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য আপনাকে যে কাজ করতে হবে

তার মধ্যে অন্যতম হল অ্যাপ রেফার করে আয় , কিছু ছোট সার্ভে করতে হবে, অন্য ওয়েবসাইটে

সাইনআপ করতে হবে, গেম খেলতে হবে, ভিডিও দেখতে হবে, ইত্যাদি ।

২০. অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয়:

ছবি তোলা যদি আপনার পছন্দের হবি হয়ে থাকে ,তবে আপনার এই হবি দিয়ের মাসে হাজার ডলার

ইনকাম করতে পারেন। আপনি আসেপাশের প্রকৃতি, স্থান, মানুষ, জিনিস, খাবার, সহ যে কোন কিছুর

ভাল ছবি তুলুন এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। শাট্টারস্টক, ফোটোলিয়া,

আইস্টকফটো, ফটোবিককেটের মত বড় বড় সাইটগুলি রয়েছে যেখানে আপনি আপনার তোলা

ফটো জমা দিতে পারেন। যখনই কোনও গ্রাহক আপনার তোলা কোন ছবি কিনবে, আপনি আপনার

ছবির নির্দিষ্ট মূল্য পেয়ে যাবেন।

২১) স্যোসাল মিডিয়া থেকে আয়:

সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বন্ধু, পরিবার, সহকর্মী বা অনলাইন ফ্রেন্ডদের সাথে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম

হিসাবে নয়। আপনি চাইলে রাখতে স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিমাসে বাড়তি ইনকাম করতে পারেন।

আপনি আপনার সকল স্যোসাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার ,গুগল প্লাস+, ইন্সটাগ্রাম ,লিঙ্কডিন

থেকে ইনকাম করতে পারবেন আপনার যদি ফেসবুকে ৫০০০ এর উপর ফ্যান সহ কোন ফ্যানপেজ থাকে

অথবা অন্য স্যোসাল মিডিয়া যেমন টুইটার, গুগল প্লাস, ইন্সটাগ্রাম বা লিঙ্কডিনে নির্দিষ্ট পরিমানে

ফলোয়ার থাকে তবে আপনি বিভিন্ন সাইট বা ব্র্যান্ডের প্রোমোশন করে ইনকাম করতে পারেন।

২২. ডিজাইন করে আয়:

আপনি যদি ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হন, তাহলে আপনি খুব ভালোভাবে অনলাইনের মাধ্যমে ইনকাম

করতে পারেন। অনেকে ডিজাইনিং টাকে এখন ঐভাবে মূল্যায়ন না করলেও এটার চাহিদা আছে ঠিক

আগের মতোই। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে আপনি এই ডিজাইনিং এর কাজ পাবেন না। তবে

আপনাকে ভালো মানের ডিজাইনার হতে হবে এবং সেই সাথে ভালো ভালো পোর্টফলিও শো করতে হবে।

২৩. ভিডিও শেয়ারিং করে আয়:

ভিডিও শেয়ারিং বলতে দারুণ সব কমেডি বা শিক্ষণীয় ভিডিও আপনি তৈরি করতে পারেন,তারপর

সেগুলো ইউটিউব বা অন্য ভিডিও শেয়ারিং সাইটে দেখানোর মাধ্যমে আপনি সহজে ইনকাম করতে

পারেন। তবে আপনাকে ভিডিও ক্রিয়েশনে অনেক বেশি এক্সপার্ট হতে হবে। গতানুগতিক ভিডিও

আপনাকে হতাশ করবে।

২৪. অনলাইন সেবা করে আয়:

বিশ্ব এখন এগিয়ে যাচ্ছে অনেক দ্রুত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ

করে। সবসময় যেন কাস্টমার তাদের সাথে রিলেটেড থাকতে পারে সেজন্য এখন অনলাইন নির্ভর

অনেক সেবা রাখে প্রতিষ্ঠানগুলো। তাঁর মধ্যে কাস্টমার সাপোর্ট, ই-মেইল প্রেরন বা অন্য অনেক সেবা।

যা আপনি অনলাইনে বাড়ি বসে করতে পারেন। যা আপনাকে দিতে পারে ভালো এমাউন্ট।

২৫. কাস্টোমার সার্ভিসঃ

অনলাইন সেবামুলক সব প্রতিষ্ঠানের এখন কাস্টোমার সেবা আছে। বিভিন্ন ফোন কোম্পানি থেকে শুরু

করে ছোট-বড় সকল প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইন মুখী। আর যেহেতু এখন মানুষ অনলাইনে বাড়ি বসে

সেবা নিতে বেশি অভ্যস্থ সেহেতু এই সুযোগে আপনি নিজেকে অনলাইন কাস্টোমার হিসাবে নিজেকে

উপস্থাপন করতে পারেন। যেটা আপনার ইনকামের বিশাল একটা ক্ষেত্র হতে পারে।সেই সাথে স্বাধীনতা

। তবে এক্ষেত্রে আপনার ভাষা জ্ঞান থাকতে হবে দারুণ।

২৬.ইমেইল মার্কেটিং করে আয়:

মেইলচিম্পের মাধ্যমে ইমেইল নিউজলেটার সেল করে আয় করতে পারেন। স্পন্সর বা সাবস্ক্রাইবার খুজে

বের করতে হবে । যেখানে ভিজিটররা নিউজলেটার পাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করবে।

HackerNewletter, NowIKnow এবং Launch.co এই ধরনের কাজের ভাল উদাহরণ হতে

পারে।

২৭.কুটির শিল্প এর কাজ থেকে আয়:

সৃজনশীল কিছু তৈরি করুন যেমন হ্যান্ডবেগ জুয়েলারি পেইন্টিং বা কুটিরশিল্প ইত্যাদি এবং তা বিক্রয়

করতে পারেন ইটসি, আর্টফায়ার বা ই-বে তে বিক্রয় করতে পারেন।
 

২৮.গান বিক্রি করে আয়:

অনেকেই আছেন যারা ভাল গান করেন। আপনি যদি ভাল গান করে থাকেন অ্যামাজন এমপিথ্রি,

আইটিউন , প্যান্ডোরা,স্পটিফাই এর গান গুলো বিক্রয় করতে পারেন। এজন্য ডিস্ট্রোকিড DistroKid ,

টিউনকোর Tunecore, লাউডার এফএম loudr.fm বা সিডিবেবির CDBaby সাহায্য নিতে

পারেন। আপনি চাইলে সরাসরি আপনার অডিও ফাইল গুলো অডিও জংগল AudioJungle, পন্ড৫

Pond5 বিক্রয় করতে পারেন।

২৯.লোগো বিক্রি করে আয়:

সৃজনশীল কাজ যেমন লোগো ডিজাইন,ব্যানার ডিজাইন,ওয়েব ডিজাইন অন্যান্য মার্কেটিং এর

উপাদানগুলো তৈরী করে অনলাইনে আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ৯৯ডিজাইন 99Designs , ক্রাউডস্প্রিং

CrowdSpring , ডিজাইনক্রাউডের DesignCrowd মত সাইটগুলো থেকে আয় করা যায়।

৩০.ভয়েস আর্টিষ্ট হিসাবে কাজ করে আয়:

আপনার কি ভাল কন্ঠ আছে। আপনার যদি ইংরেজীতে জড়তা না থেকে থাকে তবে উমানো, ভয়েসবানী

VoiceBunny, ভয়েস১২৩ Voice123 ভয়েস আর্টিষ্ট হিসাবে কাজ করে আয় করতে পারেন।

অনলাইনে ইনকামের এই ৩০ টি উপায় সবথেকে বেশি নির্ভরযোগ্য। এছাড়া আরও বেশ কিছু উপায়

আছে যেমন, বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তর সাইটের মাধ্যমে, আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে মানুষকে পরামর্শ ও

ট্রেনিং দিয়ে, অনলাইনে পুরাতন পন্য কেনা বেচা করা, বিভিন্ন ক্রিপ্টো-কারেন্সি যেমন বিটকয়েন কেনা

বেচা করা, অনালাইনে ডলার কেনা বেচা করা,  আপনি যদি এর যে কোন একটি বা একাধিক উপায়

অবলম্বন করে কাজ করা শুরু করেন তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনার অনলাইন ইনকাম শুরু হবে।

তবে আপনি যদি অনলাইনে দীর্ঘ মেয়াদী ইনকাম করতে চান তবে ধৈর্য ধরে নির্দিষ্ট কাজে সময় দিন।

আজ এক আর কাল আরেকটা কাজ না করে যে কোন একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন।

লেখা গুলো পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদেরকে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আপনার

সুচিন্তিত মতামত আমার একান্ত কাম্য। তাই এই বিষয়ে আপনার যদি কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে

অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি আনন্দের সহিত আপনার মতামত গুলো পর্যালোচনা করে

রেপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ভাল থাকবেন।

simonpan

শিমন পান হলেন , এই ওয়েব সাইটের একজন প্রফেশনাল এফিলিয়েট মার্কেটার। এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ক খুঁটিনাটি বিষয়বস্তূ নিয়ে আলোচনা করা এবং মাতৃভাষা বাংলাতেই কিভাবে একজন ব্যাক্তি জিরো থেকে শুরু করে সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করাই এই ওয়েবসাইট এর মূল উদ্দেশ্য । তিনি অনলাইনে কাজ শুরু করেন ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে । তার প্রথন সাইটটির নাম হল www.makemoneywithdada.com । এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ক বিভিন্ন আপডেট পেতে নিয়মিত এ ওয়েবসাইট টি ভিসিট করুন। যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন :- simonpanbd@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *